সুরের জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ইন্ডিয়ান আইডল সিজন থ্রি এর বিজয়ী গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত তামাং আর নেই। রবিবার নয়াদিল্লিতে নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র তেতাল্লিশ বছর। আচমকা এই খবরে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে অনুরাগীরা। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর পরিবারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা শোকবার্তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ঘনিষ্ঠ মহল ও শিল্পীমহলে নেমে এসেছে গভীর শোক ও হতবাক নীরবতা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি অরুণাচলপ্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন প্রশান্ত। অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি দিল্লিতে ফিরে আসেন। রবিবার বাড়িতেই থাকার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। জানা যাচ্ছে, আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজেশ ঘটানি গায়কের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। দার্জিলিংয়ের প্রখ্যাত গায়ক মহেশ সেবা সংবাদমাধ্যমকে জানান, হৃদরোগই এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ। কর্মসূত্রে বেশ কিছুদিন ধরেই দিল্লিতে বসবাস করছিলেন প্রশান্ত।
দুই হাজার সাত সালে ইন্ডিয়ান আইডল জয়ের পর রাতারাতি দেশজুড়ে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন প্রশান্ত তামাং। কলকাতা পুলিশের কর্মী থেকে জাতীয় মঞ্চের জনপ্রিয় গায়ক হয়ে ওঠার গল্পটি যেন বাস্তবের রূপকথা। দার্জিলিঙে জন্ম তাঁর। ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি ছিল অগাধ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাই তাঁকে নিয়ে গিয়েছিল দেশের অন্যতম বড় মঞ্চে। শুরু থেকেই তাঁর কণ্ঠ ও ব্যক্তিত্ব দর্শকদের মন জয় করেছিল। নেপালি ভাষাভাষী এই শিল্পীর জনপ্রিয়তা ভারত ছাড়িয়ে নেপালেও ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশান্তের গাওয়া নেপালি গান আজও শ্রোতাদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ রেখেছিলেন তিনি। জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ পাতাল লোক টু তে তাঁর অভিনয় নজর কেড়েছিল দর্শকদের। এছাড়াও নেপালি চলচ্চিত্র জগতে প্রশান্ত ছিলেন পরিচিত মুখ। গোর্খা পল্টন, পরদেশী এবং পরদেশী টু এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল দর্শক ও সমালোচকদের কাছে। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই শিল্পী নিজস্ব ছাপ রেখে গিয়েছেন নানা মাধ্যমে।
আরও পড়ুনঃ জিতু-শিরিন নয়, নজর কাড়ছে জিতু-পায়েল জুটি! শিরিন ওরফে অপর্ণাকে ছাপিয়ে, ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর নায়িকার মুখ হয়ে উঠছেন রাজনন্দিনী, পায়েল? আর্য-রাজনন্দিনীকে একসঙ্গে, কেমন লাগে আপনাদের?
প্রশান্ত তামাংয়ের অকালপ্রয়াণে শুধু ভারতের সংগীত জগৎ নয়, নেপালের সাংস্কৃতিক মহলেও নেমে এসেছে গভীর শোক। সহশিল্পী থেকে অনুরাগী সবাই স্মরণ করছেন তাঁর হাসিমুখ, সহজ ব্যবহার আর সুরেলা কণ্ঠকে। সামাজিক মাধ্যমে শোকবার্তায় ভরে উঠেছে ভক্তদের লেখা। বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন প্রেরণার প্রতীক। অল্প বয়সে চলে গেলেও তাঁর গান, অভিনয় আর সংগ্রামের গল্প দীর্ঘদিন অনুরাগীদের মনে বেঁচে থাকবে। সুরের আকাশে তিনি থাকবেন স্মৃতির তারায় জ্বলজ্বল করে।
