জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

নস্টালজিয়া উস্কে এক ফ্রেমে ‘অমর সঙ্গী’ জুটি! জন্মদিনে অ’সুস্থ বন্ধু সুজিত গুহর বাড়িতে পৌঁছে গেলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়! কেক কেটে বিশেষ উদযাপন, জ্যেষ্ঠপুত্র বিদায়বেলায় দিলেন প্রতিশ্রুতিও?

বর্ষীয়ান পরিচালক সুজিত গুহর জন্মদিন এ বছর অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি আবেগঘন হয়ে উঠল। কয়েক সপ্তাহ আগেই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসার পর এখন তিনি বাড়িতে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এমন সময়েই জন্মদিন উপলক্ষে তাঁকে চমকে দিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীও। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের উষ্ণতা এবং ভালোবাসা জন্মদিনের দিনটিকে আরও বিশেষ করে তোলে। ইন্ডাস্ট্রির তিন পরিচিত মানুষের একসঙ্গে কাটানো এই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই অনুরাগীদের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশেষভাবে তৈরি একটি কেক। প্রসেনজিৎ এবং সুজিত গুহর জনপ্রিয় ছবি ‘অমর সঙ্গী’-র স্মৃতিকে সামনে রেখেই কেকটি সাজানো হয়েছিল। ছবিতে প্রসেনজিতের বিখ্যাত লাল-সাদা পোশাক ও মাফলারের আদলে তৈরি সেই কেক দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পরিচালক। প্রিয় ‘বুম্বা’কে কাছে পেয়ে তিনি তাঁকে জড়িয়ে ধরেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কেক কাটার সময়ও ছিল একাধিক সুন্দর মুহূর্ত। নিজের হাতে কেক কেটে প্রসেনজিতের মুখে তুলে দেন সুজিত গুহ। পরে হরনাথ চক্রবর্তী কেক খেতে ইতস্তত করলে, প্রসেনজিৎ এবং সুজিত গুহ মিলে স্নেহের সঙ্গেই তাঁকেও কেক খাইয়ে দেন।

এই আড্ডা শুধু জন্মদিন উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল বহু বছরের সম্পর্কের আন্তরিক প্রকাশও। অসুস্থতার মধ্যেও সুজিত গুহর মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে পেরেছিলেন তাঁর প্রিয় মানুষরা। প্রসেনজিৎ বিদায় নেওয়ার আগে পরিচালকের ভাগ্নিকে স্পষ্টভাবে জানান, ভবিষ্যতে সুজিত গুহর যে কোনও প্রয়োজনে যেন সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এই আশ্বাস শুনে আবেগে ভেসে যান পরিচালক। ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে প্রসেনজিতের হাতের কব্জিতে স্নেহের চুম্বন এঁকে দেন তিনি। এরপর দু’জনের উষ্ণ আলিঙ্গনের দৃশ্য উপস্থিত সকলকেই আবেগপ্রবণ করে তোলে।

পরে এই সুন্দর মুহূর্তগুলির ভিডিও সমাজ মাধ্যমে ভাগ করে নেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। পোস্টে তিনি লেখেন, “যার জন্য অমর সঙ্গী সেই সুজিত গুহর জন্মদিনে একটা মন ভাল করে দেওয়া আড্ডা হলো ওর বাড়ি গিয়ে… সাথে আরেক বন্ধু পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তী…চিরদিনই অটুট থাকুক এই ভালবাসা।” তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগীরাও শুভেচ্ছা এবং ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন। বহু মানুষ সুজিত গুহর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রশংসা করেছেন।

উল্লেখ্য, সুজিত গুহ ব্যক্তিগত জীবনে কখনও বিয়ে করেননি। দীর্ঘ ৩৩ বছর তিনি দিদি এবং জামাইবাবুর সঙ্গে একই বাড়িতে ছিলেন। বর্তমানে তাঁদের মৃত্যুর পর বোনপো এবং বোনপোর স্ত্রীই তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়েছেন। টলিউডে নানা সম্পর্কের টানাপোড়েনের খবর মাঝেমধ্যেই সামনে এলেও, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সুজিত গুহ এবং হরনাথ চক্রবর্তীর এই আন্তরিক বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা আবারও প্রমাণ করল, বহু বছরের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়ে উঠতে পারে। জন্মদিনের এই ছোট্ট আয়োজন তাই শুধু একটি উদযাপন নয়, বরং টলিউডের এক সুন্দর সম্পর্কের ছবিও হয়ে রইল।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page