বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ফলাফলের পর নতুন করে চর্চায় অভিনেত্রী ও সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারে নামা পরিচিত মুখদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। এবারের বিধানসভা ভোটেও দলীয় প্রচারে তাঁকে একাধিক জায়গায় দেখা গিয়েছিল। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর এক সাক্ষাৎকারে রচনার বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। কারণ, সেখানে তিনি শিল্পী এবং ভোট রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন। তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শুধুমাত্র পরিচিত মুখ নামালেই নির্বাচনী সাফল্য নিশ্চিত হয় না। এই বক্তব্য এখন রাজনৈতিক মহল থেকে টলিউড, সব জায়গাতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রচনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা করতাম, আজও করি ভবিষ্যতেও করব।” একই সঙ্গে তিনি জানান, দলনেত্রীর ডাক এলে অনেক শিল্পীর পক্ষেই না বলা কঠিন ছিল। তাঁর কথায়, “উনি ডাকলে শিল্পীরা না বলতে পারতেন না।” তবে এখানেই তিনি দলের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রচনার মতে, “কিন্তু যেটা ভুল হয়ে গেল সেটা হল শিল্পীদের দাঁড় করালেই যে ভোটটা আসবে, এই চিন্তা ভাবনাটা ভুল হয়ে গেল।” তিনি আরও বলেন, “শিল্পীরা আসলেই ভোট বাক্সে ভোট পড়ে না, সেটা প্রমাণিত হয়ে গেল।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, জনপ্রিয়তা আর ভোটব্যাঙ্ক সব সময় এক জিনিস নয়।
ভোট-পরবর্তী সময়ে টলিউডের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েক বছরে শিল্পী মহলে রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছিল বলে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। একাংশের দাবি ছিল, যারা তৃণমূলের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেননি, তাঁদের অনেকেই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। কেউ কেউ ইন্ডাস্ট্রিতে অঘোষিতভাবে ব্যান হওয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন। রচনার বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই চাপা অসন্তোষের ইঙ্গিত। তিনি জানান, বহু শিল্পী এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারেননি। রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে কর্মক্ষেত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।
পুরনো দিনের টলিউডের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনাও টেনেছেন রচনা। তাঁর মতে, “১৫ বছর আগে কোন রাজনৈতিক দল এসে ফ্লিম ইন্ডাস্ট্রি চালাতে না।” অর্থাৎ আগে চলচ্চিত্র জগতের কাজের ধরন ছিল অনেকটাই স্বাধীন। তিনি বলেন, “আমরা নিজেদের মতো কাজ করেছি।” তখন বিভিন্ন সংগঠন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাই শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের কাজের বিষয় দেখতেন। রচনার ভাষায়, “ফোরাম, ইম্পার প্রেসিডেন্ট কাজ করত।” পাশাপাশি তিনি জানান, “সব ফিল্ডের আলাদা আলাদা ফোরাম ছিল, তাদের হেড যিনি থাকতেন, তাঁর কথা অনুযায়ী কাজ করত সকলে।” ফলে কাজের পরিবেশ ছিল সুসংগঠিত ও স্বাভাবিক।
আরও পড়ুনঃ একেই বলে ডিগবাজি! ‘শুভেন্দুকে বিশ্বাস করা ভুল ছিল’ বলেছিলেন, এবার মুখ্যমন্ত্রী হতেই শুভেন্দুকে দাদা বলে আবেগঘন বার্তা সোহেলের! ফের পদ্মে ফেরার লোভ হচ্ছে নাকি অভিনেতার?
শেষে রচনা জানান, সেই সময় ইন্ডাস্ট্রিতে এত অশান্তি ছিল না। তাঁর কথায়, “এত অশান্ত পরিবেশ আগে ছিল না। খুব শান্তিতে আমরা কাজ করছিলাম।” কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে পরিস্থিতি বদলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। রাজনৈতিক রং লেগে যাওয়ায় অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেছেন। রচনা বলেন, “বিগত কিছু বছরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল সেটা মেনে নিতে পারেনি অনেকেই।” তাঁর এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, শুধুমাত্র ভোটের ফল নয়, টলিউডের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও নতুন বিতর্ক সামনে এসেছে। এখন দেখার, এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে আর কী প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।
