বাংলা বিনোদন জগতে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee)-র অকালপ্রয়াণ এখনও মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার, বন্ধু এবং অনুরাগীরা। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর চলে যাওয়া যেন এক বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। সম্প্রতি শহরে অনুষ্ঠিত হল রাহুল অভিনীত শেষ ছবি ‘ছবিওয়ালা’-র স্পেশাল স্ক্রিনিং। সেই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতার দাদা অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাইয়ের শেষ কাজ বড়পর্দায় দেখতে গিয়ে বারবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। ছবির একাধিক দৃশ্য তাঁকে যেন বাস্তবের যন্ত্রণার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।
সাক্ষাৎকারে অনির্বাণ জানান, পুরো ছবিটাই তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর কথায়, “লাস্ট থেকে শুরু পর্যন্ত আমার চোখ দিয়ে জল পড়েছে। এটা ভীষণ টাচিং আর ইমোশনাল একটা ছবি। কিন্তু একইসঙ্গে মনে হচ্ছিল, ও থাকলে আরও কত কিছু করতে পারত।” ভাইকে হারানোর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার ভেঙে পড়েন। অনির্বাণ বলেন, “আমার নিজের দুঃখ আছে, মায়ের দুঃখ আছে, সবারই কষ্ট আছে। কিন্তু আমি যদি ভাইয়ের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে দেখি, তাহলে মনে হয় ওর আরও অনেক কিছু করার ছিল। প্রফেশনাল আর পার্সোনাল দু’দিকেই ওর অনেক স্বপ্ন ছিল।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, পরিবারের কাছে রাহুল শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় ভরসাগুলির একটি।
সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন রাহুলের মা। সেই প্রসঙ্গে অনির্বাণ বলেন, “মা রাতে ঘুমের মধ্যে ডুকরে কেঁদে ওঠে। ঘুমের ওষুধ খেয়েও ঠিকভাবে ঘুমোতে পারছে না।” তিনি জানান, মা আর ভাই একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। রাহুল কোনও পরিস্থিতিতেই মাকে একা ছাড়তেন না। তাই এই শূন্যতা মেনে নেওয়া তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। অনির্বাণের কথায়, “একটা মায়ের যদি ৪২-৪৩ বছরের সুস্থ, সফল ছেলে হঠাৎ করে চলে যায়, তাহলে কী হতে পারে, সেটাই হচ্ছে।” এখন সময়ের নিয়মে সবাই কাজে ফেরার চেষ্টা করলেও মাঝেমধ্যেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
রাহুলের কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতার কথাও উঠে আসে অনির্বাণের বক্তব্যে। তিনি বলেন, রাহুল সবসময় অন্যদের সাহায্য করতেন, বিশেষ করে নতুন এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উৎসাহ দিতেন। তাঁর মতে, “এমন একজন মানুষ সমাজের খুব দরকার ছিল।” অভিনেতার মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। অনির্বাণ জানান, নতুন সরকার, আইনব্যবস্থা এবং শিল্পী মহলের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি নিশ্চিত সত্যিটা সামনে আসবে। দিনের আলোয় এত লোকের সামনে ঠিক কী হয়েছিল, সেটা জানা খুব দরকার।” তদন্ত নিয়ে এখনও বিশেষ কোনও আপডেট না পেলেও ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছেন বলেই জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ দিদি বিদায় নিতেই ভাইরাল ঊষা উত্থুপের ‘দিদি গো’ গান! এই গান তৃণমূলের পরাজয় উদযাপনের, কটাক্ষ করছেন নেটিজেনরা, কী বলছেন গায়িকা?
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে উঠে আসে রাহুলের অত্যন্ত প্রিয় জায়গা ‘সহজ কথা’-র প্রসঙ্গ। অনির্বাণ জানান, সেটি শুধু একটি স্টুডিও নয়, রাহুলের লাইব্রেরিও ছিল। সেখানে অসংখ্য বই, বিশ্ব সিনেমার ডিভিডি এবং অভিনেতার বহু স্মৃতি আজও রয়ে গেছে। পরিবারের সদস্যরা এখনো সেখানে গিয়ে অনেকটা সময় কাটান। ভাইয়ের স্মৃতি, তাঁর কাজ, তাঁর স্বপ্ন সবকিছু যেন এখনো সেই ঘরজুড়ে বেঁচে আছে। অনির্বাণের কথায়, “পশ্য এখন সারাদিন আমার পিছনে ঘোরে। মনে হয় ও বুঝতে পারছে ভাই নেই।” এই কথাতেই যেন ধরা পড়ে একটি পরিবারের গভীর শোক, অপূরণীয় ক্ষতি এবং প্রিয় মানুষকে হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা।
