পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের পনেরো বছরের শাসনের শেষের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ৪ মে ২০২৬-এর নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের নানা প্রান্তে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে ফলাফল উদযাপন করতে থাকে। ঠিক সেই সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় একটি ভিডিও, যেখানে দেখা যায় প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ মঞ্চে ‘দিদি গো’ গান পরিবেশন করছেন। ভিডিওটি মুহূর্তেই নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, এই গানটি নাকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরাজয় উদযাপন করার ইঙ্গিত বহন করছে। তারা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘনিষ্ঠ মহলে ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করা হয়, তাই গানের এই শিরোনামকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হচ্ছে। একটি পোস্টে উল্লেখ করা হয়, “ঊষা উত্থুপ দিদি গো গান গেয়ে তৃণমূলের পতনের আনন্দ প্রকাশ করছেন।” এই ধরনের মন্তব্যের ফলে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়।
কিন্তু বিতর্কের সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ব্যবহারকারীরা ব্যাখ্যা দেন, যে গানটি গাওয়া হয়েছে সেটি মূলত আলজেরিয়ার গায়ক খালেদের জনপ্রিয় আরবি গান ‘দিদি’-এর বাংলা সংস্করণ। তারা বলেন, গানটি বহু বছর ধরে শিল্পী শুধুমাত্র সঙ্গীত পরিবেশনার অংশ হিসেবে পরিবেশন করছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “এটি একটি জনপ্রিয় আরবি সুরের বাংলা রূপান্তর। আমরা ২০০৪ বা ২০০৫ সাল থেকেই এটি শুনে আসছি। এটি কোনও রাজনৈতিক বার্তা নয়।” ফলে নেটমাধ্যমে মতভেদ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এই বিতর্ককে চরম আকার নেওয়ার পর ৭৮ বছর বয়সি ঊষা উত্থুপ নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, যে পোস্ট ঘুরছে, সেখানে অনেক কিছুই ভুল এবং বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, “যে গানটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, তা বহু বছর ধরে শুধু সঙ্গীত পরিবেশনার অংশ। এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।” তিনি আরও জানিয়েছেন, তিনি কখনও কলকাতা ছেড়ে মুম্বই যাননি এবং সবসময় এখানেই বাস করছেন।
আরও পড়ুনঃ উচ্চমাধ্যমিকে দুর্দান্ত সাফল্য, স্কুলের মধ্যে তৃতীয়! এবার নায়িকা হিসেবেও নতুন শুরু ‘দুলারী’ দেবপ্রিয়া বসুর! রেজাল্টে খুশির হাওয়া পরিবারে! এরপর কী নিয়ে পড়তে চায় বোন, জানালেন দিদি দেবাদৃতা?
ঊষা উত্থুপের স্পষ্ট বক্তব্যের পরও বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে শিল্পীর নিজের অবস্থান এবং সঙ্গীতকে কেন্দ্র করেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে মনে করা হচ্ছে। নেটিজেনরা এখন বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে মন্তব্য করছেন, কেউ রাজনৈতিক ইঙ্গিত দেখছেন, আবার কেউ কেবল সঙ্গীত পরিবেশনা বলেই বিষয়টি দেখছেন। এদিকে গায়িকার নিজস্ব বক্তব্য বিতর্ককে শান্ত করার চেষ্টা করছে।
