ছোটপর্দায় কাজ হীন! এবার যাত্রামঞ্চে ফিরছেন রাজা গোস্বামী ও মধুবনী গোস্বামী! ছোটপর্দার ভবিষ্যৎ নিয়েই তুললেন বড় প্রশ্ন

প্রিয় জুটি হিসেবে দর্শকের মনে এখনও অমলিন রাজা গোস্বামী এবং মধুবনী গোস্বামী। ‘ভালবাসা ডট কম’ ধারাবাহিকের ওম আর তোড়া চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তাঁরা। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। তবে এবার ছোটপর্দা নয়, তাঁরা ফিরছেন যাত্রামঞ্চে। আসন্ন সিজনে ভারতরত্ন অপেরার ‘কুঁড়েঘরে রাজকন্যা’ পালায় দেখা যাবে এই জুটিকে। পরিচালনায় মঞ্জিল বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে, অগস্ট থেকেই শুরু হবে মহড়া, আর সেই খবরেই উচ্ছ্বসিত ভক্তরা।

মধুবনী জানিয়েছেন, যাত্রার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নতুন নয়, বরং এটাই তাঁদের ষষ্ঠ বছর। করোনা সময়েই তাঁদের ছেলে কেশবের জন্ম, আর সেই সময় থেকেই সংসার ও সন্তানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, সন্তানকে অন্যের হাতে বড় করতে চাননি। সেই সঙ্গে বাইরের পরিস্থিতির কথাও ভেবেছেন। ফলে নিজের কেরিয়ার কিছুটা পিছিয়ে রেখে পুরো সময় দিয়েছেন পরিবারকে, যেখানে রাজা এবং দুই পরিবারের সমর্থন ছিল বড় শক্তি।

এখন কেশব স্কুলে গেলেও, মা হিসেবে দায়িত্ব কমেনি বলে মনে করেন মধুবনী। ছোটপর্দার দীর্ঘ শুটিং শিডিউল তাঁর পক্ষে ম্যানেজ করা কঠিন। তিনি মনে করেন, কাজের জায়গায় নিজের সুবিধার জন্য শর্ত চাপানো তাঁর স্বভাবের সঙ্গে যায় না। সেই কারণেই যাত্রামঞ্চ তাঁদের কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক। সকালে সন্তানকে সময় দেওয়া যায়, আর সন্ধ্যায় শো করা সম্ভব হয়। এই ভারসাম্যই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে তাঁদের মনে। মধুবনীর কথায়, ইন্ডাস্ট্রিতে যেভাবে ‘ব্যান সংস্কৃতি’ বাড়ছে, তা চিন্তার কারণ। ভাল টিআরপি থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা তাঁরা নিজেরাই দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা এখন আর শুধুমাত্র টেলিভিশনের উপর নির্ভর করছেন না। বিকল্প হিসেবে ব্যবসার দিকেও মন দিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে অনিশ্চয়তা কম থাকে।

ওয়েব সিরিজ বা সিনেমার সুযোগ থাকলেও সেখানেও দূরত্ব বজায় রাখছেন এই জুটি। মধুবনী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই মাধ্যমগুলিতে যে ধরনের সাহসী বা অন্তরঙ্গ দৃশ্য থাকে, তা তাঁদের স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে পড়ে না। তাই সচেতন ভাবেই তাঁরা সেই পথ এড়িয়ে চলছেন। নিজের শর্তে কাজ করা এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page