রাজ চক্রবর্তীর নতুন ছবি হোক কলরব মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে। ছবির টিজারে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের বলা একটি সংলাপ ঘিরে উত্তাল সোশাল মিডিয়া। টিজারে তাঁর চরিত্রের নাম ক্ষুদিরাম চাকী এবং সেই পরিচয় দিতে গিয়ে ব্যবহৃত রসিকতামূলক সংলাপ অনেকের মতে বাঙালির আবেগে আঘাত করেছে। বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর আত্মবলিদানের সঙ্গে নামের এই ব্যবহারকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য বলে মনে করছেন নেটিজেনদের একাংশ। ফলে ছবি মুক্তির আগেই প্রশ্ন উঠছে বাংলা সিনেমার দায়বদ্ধতা নিয়েও।
এই বিতর্কে প্রথমে মুখ খুলেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ছবির চরিত্রটি একজন পুলিশ অফিসার এবং পুরো প্রেক্ষাপট না দেখলে সংলাপের অর্থ বোঝা সম্ভব নয়। রাজের দাবি, ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও মহান ব্যক্তিত্বকে অপমান করার উদ্দেশ্য ছিল না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে। তবে রাজের এই বক্তব্য মানতে নারাজ বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। তাঁর মতে রাজ অকারণে রাজনীতিকে টেনে এনে মানুষের আবেগকে খাটো করছেন এবং বিতর্ক এড়াতে চাইলে ওই অংশ বাদ দেওয়া যেত।
এর মধ্যেই বিতর্কে নিজের মতামত জানালেন তৃণমূল সাংসদ ও অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। রচনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে এমন নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া উচিত ছিল। তাঁর মতে পরিচালক চাইলে অন্য নামও রাখতে পারতেন। যদিও তিনি এটাও বলেন যে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া খুব শক্তিশালী হয়ে ওঠায় সামান্য বিষয়ও বড় ইস্যু হয়ে যায়। আগে এমন নাম ব্যবহৃত হলেও তখন এতটা প্রতিক্রিয়া দেখা যেত না।
এই প্রসঙ্গে রচনা টেনে আনেন নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তিনি জানান তাঁর বাবার নাম রবীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেই নাম নিয়েও নানা রসিকতার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু তাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অপমান করা হয় এমনটা তিনি কখনও ভাবেননি। সেই যুক্তিতেই রচনার ধারণা চরিত্রের নাম রাখার ক্ষেত্রেও হয়তো তেমন ভাবনাই কাজ করেছে। তবে তিনি আবারও স্বীকার করেন সচেতনতা থাকলে এই বিতর্ক এড়ানো যেত।
আরও পড়ুনঃ শুভশ্রী থেকে শ্রীময়ী-কাঞ্চন, দিতিপ্রিয়া-জিতু কারণে অকারণে ট্রোল হয়ে বছরভর চর্চার কেন্দ্রে থাকলেন যে তারকারা তাদের দেখে নেওয়া যাক!
সব মিলিয়ে রাজের ছবির একটি সংলাপ ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন বড় আকার নিয়েছে। একদিকে শিল্পীর স্বাধীনতা অন্যদিকে ইতিহাস ও আবেগের সম্মান এই দুইয়ের টানাপোড়েন আবারও সামনে এসেছে। রচনার বক্তব্যে যেমন সংযমের বার্তা রয়েছে তেমনই আছে ভুল স্বীকারের জায়গা। এখন দেখার ছবি মুক্তির পর এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয় এবং দর্শক শেষ পর্যন্ত কী রায় দেয়।
