জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘মরলে পোস্ট না করে, বেঁচে থাকতে খোঁজ রাখুন!’ টলিপাড়ার মেকি সহানুভূতিতে বি’স্ফোরক রূপসা চক্রবর্তী! অনীক-রাহুল মৃ’ত্যুর আবহে কড়া বার্তা অভিনেত্রীর!

টলিপাড়ায় যেন একের পর এক দুঃসংবাদ থামছেই না। ৪২ বছর বয়সে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু থেকে এখনও পুরোপুরি বেরোতে পারেনি ইন্ডাস্ট্রি। তার মধ্যেই পরিচালক অনীক দত্তর মৃত্যুর খবর আরও বড় ধাক্কা দিয়েছে বিনোদন জগতকে। এই দুই মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে শোকবার্তা, স্মৃতিচারণ আর আবেগঘন পোস্টের বন্যা নেমেছে, তা নিয়েই এবার সরব হলেন অভিনেত্রী রূপসা চক্রবর্তী। ব্লুজ প্রোডাকশনের কর্ণধার স্নেহাশিস চক্রবর্তীর স্ত্রী রূপসা নিজের সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন এই ভার্চুয়াল সহানুভূতির সংস্কৃতি নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, মানুষ বেঁচে থাকতে পাশে না দাঁড়িয়ে মৃত্যুর পর মায়াকান্না দেখানো এখন যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর সেই কারণেই তাঁর পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

নিজের পোস্টে রূপসা খুব স্পষ্ট ভাষাতেই লিখেছেন, “মানুষকে যদি সত্যিই ভালোবাসেন, তবে সেই ভালোবাসার কথা মানুষটা বেঁচে থাকতেই তাকে জানান।” অভিনেত্রীর মতে, কারও জীবিত অবস্থায় তাকে গুরুত্ব দেওয়াটাই সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। তিনি আরও লেখেন, “তাকে অনুভব করান সে আপনার কাছে কতটা প্রিয়, কতটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সময় চলে যাওয়ার পরে হাজারো শব্দ, হাজারো পোস্ট, হাজারো স্মৃতিচারণ এর থেকেও জীবিত অবস্থায় বলা একটি কথা, যেমন তুমি আমার খুব প্রিয়, খুব আপন, খুব ভালো লাগে তোমাকে, এই কথা গুলো অনেক বেশি মূল্যবান।” রূপসার এই বক্তব্য অনেকের কাছেই বর্তমান টলিপাড়ার বাস্তব ছবিকে সামনে এনে দিয়েছে। কারণ, বহু শিল্পী বা নির্মাতা যখন ব্যক্তিগত লড়াই, অবসাদ বা একাকীত্বের মধ্যে দিয়ে যান, তখন তাঁদের পাশে খুব কম মানুষকেই দেখা যায়। কিন্তু মৃত্যুর পর হঠাৎ করেই তাঁদের নিয়ে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে।

অনীক দত্তর প্রসঙ্গ টেনে রূপসা বুঝিয়ে দিয়েছেন, একজন প্রতিভাবান মানুষ জীবিত অবস্থায় কতটা উপেক্ষিত হতে পারেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরিচালক বেঁচে থাকতে অনেক সময়েই প্রাপ্য সম্মান পাননি। অথচ মৃত্যুর পর তাঁকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোকজ্ঞাপনের ঢল নেমেছে। নন্দনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন থেকে শুরু করে বিভিন্ন পোস্টে আবেগ প্রকাশ, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান নেটদুনিয়ার ট্রোল সংস্কৃতিকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। রূপসা লেখেন, “আমরা প্রায়ই মানুষের হাসিমুখ দেখি, কিন্তু তার ভেতরের ক্লান্তি, অবসাদ, একাকীত্ব দেখতে পাই না।” তাঁর মতে, কেউ যখন ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন, তখন তাঁকে বোঝার বদলে অনেকেই মজা করেন, কটাক্ষ করেন বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপমান করেন। যা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পোস্টে রূপসা আরও বলেন, কাউকে ভুল করলে প্রকাশ্যে ছোট করা নয়, বরং ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়ানো বেশি জরুরি। তাঁর কথায়, “আর কেউ যখন ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে, তখন তাকে নিয়ে মজা করা, ট্রোলিং করা, সোশ্যাল মিডিয়াতে আঘাত করে কথা বলা, এইভাবে মানুষটিকে বিচার না করে, যদি সে ভুল করে সেই ভুল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে, তাকে শিক্ষা দেওয়ার নামে সবার সামনে ছোটো না করে পারলে তার পাশে দাঁড়ান।” অভিনেত্রীর মতে, নীতিপুলিশ সেজে কাউকে আক্রমণ করার বদলে তার মনের অবস্থাটা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। তিনি মনে করেন, অনেক সময় শুধু একজন মানুষের সঙ্গে মন খুলে কথা বলাও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তাই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আমরা আদৌ কি মানুষের কষ্টটা বুঝতে শিখেছি, নাকি শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আবেগ দেখাই?

পোস্টের শেষ অংশে এসে রূপসা যেন আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি লেখেন, “সম্ভব হলে তাকে একটু ভালোবাসা দিন, একটু সময় দিন, একটু ভরসা দিন। হয়তো আপনার সামান্য আন্তরিকতাই তাকে আবার জীবনের প্রতি আশাবাদী করে তুলতে পারে।” এরপরই তাঁর সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্য, “মানুষ চলে যাওয়ার পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা প্রকাশ করা খুব সহজ, কিন্তু মানুষটা বেঁচে থাকতে তার অন্ধকার সময়ে হাতটা ধরে রাখা, সেটাই আসল ভালোবাসা।” অনীক দত্ত এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর আবহে রূপসার এই পোস্ট ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে নেটমাধ্যমে। টলিপাড়ার একাংশও মনে করছেন, এই বার্তা শুধুমাত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য নয়, সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রত্যেক মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সহানুভূতি শুধু পোস্টে নয়, বাস্তবেও প্রয়োজন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page