প্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তকে নিয়ে এখনও নানা স্মৃতি ভাগ করে নিচ্ছেন তাঁর সহকর্মী ও ঘনিষ্ঠরা। পরিচালকের মৃত্যুর পর একাধিক অভিনেতা-অভিনেত্রী জানিয়েছেন, নিজের কাজের ক্ষেত্রে তিনি কতটা নিখুঁত এবং আপসহীন ছিলেন। ছোট কিংবা বড়, সব শিল্পীর কাছ থেকেই তিনি সেরাটা বের করে আনতে চাইতেন। কোনও দৃশ্য বা সংলাপে সামান্য খামতিও তাঁর চোখ এড়াত না। তাই শুটিং ফ্লোরে অনেক সময় কঠোর আচরণ করলেও তার নেপথ্যে থাকত ছবিকে আরও ভালো করার চেষ্টা। সম্প্রতি অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ও এমনই একটি স্মৃতির কথা সামনে এনেছেন। যা শুনে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে অনীক দত্তর কাজের প্রতি একাগ্রতা।
২০১৩ সালে মুক্তি পেয়েছিল অনীক দত্ত পরিচালিত ছবি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’। ছবিটিতে অভিনয় করেছিলেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, রজতাভ দত্ত, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ বসুসহ একাধিক জনপ্রিয় শিল্পী। ছবিটি বাইরে থেকে কমেডি মনে হলেও এর মধ্যে ছিল একটি গভীর সামাজিক বার্তা। দর্শকদের কাছেও ছবিটি বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ছবির শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া এক মজার ঘটনার কথা স্মরণ করেন শাশ্বত। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পরিচালকের অদ্ভুত কিন্তু সৃজনশীল কাজের ধরন।
শাশ্বতের কথায়, উত্তর কলকাতার একটি ব্যস্ত এলাকায় তখন ‘আশ্চর্য প্রদীপ’-এর শুটিং চলছিল। রাস্তার মাঝখানে শুটিং হওয়ায় আশপাশে বহু সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় আচমকাই অনীক দত্ত জোরে চিৎকার করে ওঠেন, “এই ওকে তাড়াতাড়ি ধরো পালাতে দিও না। একদম যেন পালাতে না পারে।” পরিচালকের এমন চিৎকার শুনে ইউনিটের অনেকেই প্রথমে ঘাবড়ে যান। কারও মনে হয়েছিল হয়তো কোনও ব্যক্তি শুটিংয়ের জিনিসপত্র নিয়ে চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ ভাবেন অন্য কোনও সমস্যা হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই সেটে তৈরি হয় কৌতূহল।
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সামনে আসে আসল ঘটনা। জানা যায়, অনীক দত্ত আসলে একজন সাইকেল আরোহীকে থামানোর কথা বলছিলেন। কারণ ওই ব্যক্তিকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সিনেমার একটি দৃশ্যে তাঁকে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই সেই মুহূর্তের বাস্তবতাকেই ক্যামেরায় ধরে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। শাশ্বতের মতে, অনীক দত্তের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভাবনাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করত। অভিনেতার কথায়, তিনি মাঝে মাঝে ছেলেমানুষি করলেও সিনেমাকে নিখুঁত করার জন্য সবসময় নতুন কিছু ভাবতেন। নিজের কাজ নিয়ে তিনি এতটাই ডুবে থাকতেন যে আশপাশের অন্য বিষয় তাঁকে খুব একটা প্রভাবিত করতে পারত না।
আরও পড়ুনঃ রোজগেরে মাত্র তিনজন, খাওয়ার লোক এগারো! মিঠির আগমনে বি’স্ফোরক কমলার বড় ছেলে, গুহ বাড়িতে তুমুল অশান্তি! সবার সামনে স্ত্রীর ঢাল হয়ে দাঁড়াল শ্রীনিবাস, কী করলেন তিনি? টানটান ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্ব!
এদিকে পরিচালকের প্রয়াণের পর তাঁর কাজকে নতুন করে স্মরণ করছে চলচ্চিত্র মহল। সম্প্রতি নন্দনে প্রদর্শিত হয়েছে তাঁর পরিচালিত ছবি ‘অপরাজিত’। গত ৫ ও ৬ জুন ছবিটি দেখানো হয় দর্শকদের জন্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যে ছবিটি একসময় নন্দনে জায়গা পায়নি, সেই ছবিই এবার বিশেষ প্রদর্শনের সুযোগ পেল। শুধু ‘অপরাজিত’ নয়, অনীক দত্তর আরও একটি আলোচিত ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’ও নন্দনে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে পরিচালকের স্মৃতিকে ঘিরে আবারও নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে।
