টলিউড অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীকে ঘিরে ফের একবার বিতর্কের ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন থামার আগেই এবার খাবার সংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় তিনি। কলকাতার একটি পাবে বন্ধুদের সঙ্গে খেতে গিয়ে মটনের বদলে গরুর মাংস পরিবেশন করা হয়েছে বলে দাবি করেন অভিনেতা। সেই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নেটদুনিয়া।
ঘটনার বর্ণনায় সায়ক জানান তাঁরা মটন স্টেক অর্ডার করেছিলেন এবং খাওয়াও শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর রেস্টুরেন্ট কর্মীরা আরেকটি ডিশ এনে সেটিকেই মটন স্টেক বলে জানালে তাঁদের মনে সন্দেহ জাগে। ঠিক কী খেয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অভিনেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায় তিনি ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান এবং এ ঘটনা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।
এরপরই সামাজিক মাধ্যমে রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে সরব হন সায়ক এবং আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান। বিষয়টি দ্রুত বড় আকার নেয় এবং শেষ পর্যন্ত এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই পদক্ষেপ নিয়ে জনমতও বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেউ অভিনেতার পাশে দাঁড়ালেও অনেকে আবার পুরো ঘটনাকেই অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন।
অভিনেত্রী মানসী সিনহা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন স্বাদ না জানলে অনেকেই বুঝতে পারবেন না কী খাচ্ছেন। তাঁর মতে ধর্মীয় অনুভূতিকে এভাবে সামনে আনা অনুচিত এবং পুরো বিষয়টির উপস্থাপনায় বাড়াবাড়ির ছাপ রয়েছে। অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তীও কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন স্বাদের পার্থক্য বোঝার সক্ষমতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় লিখলেন মেগাস্টার! এই প্রথম সৌদি আরবে নজির স্থাপন দেবের!
অন্যদিকে অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক তুলেছেন সচেতনতার প্রসঙ্গ। তাঁর মতে বিক্রেতার ভুল থাকতেই পারে তবে ক্রেতারও দায়িত্ব রয়েছে কোথায় কী খাচ্ছেন তা বোঝার। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন প্রতিবাদের ভিডিও পরে মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েও। সব মিলিয়ে এই বিতর্ক এখন শুধু খাবার নয় বরং সামাজিক ও মানসিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোচনাতেও পরিণত হয়েছে।
