ধারাবাহিক বা সিনেমায় খলচরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীদের অনেক সময় বাস্তব জীবনেও তার প্রভাব পড়ে। দর্শকরা অনেকেই চরিত্র আর বাস্তব মানুষকে আলাদা করতে পারেন না। ফলে পর্দার চরিত্রের জন্য অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে অযথা কটূক্তি বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। এমন ঘটনা নতুন নয়, বলিউড থেকে টলিউড বহু শিল্পীর সঙ্গেই এমন হয়েছে। এবার সেই তালিকায় নাম জুড়ল ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ শ্রুতি দাসের।
বর্তমানে ‘জোয়ার ভাটা’ ধারাবাহিকে নিশা চরিত্রে অভিনয় করছেন শ্রুতি। এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মধ্যে বেশ প্রভাব ফেলেছে। অনেকেই তাঁকে সেই চরিত্র হিসেবেই দেখতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শ্রুতি নিজেই জানান, কীভাবে এই চরিত্রের জন্য তাঁকে বাস্তবে অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে বেরোলেই এমন কিছু অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যা আগে কখনও হয়নি তাঁর।
অভিনেত্রীর কথায়, এখন অনেক উবার চালক তাঁকে দেখেই অস্বস্তিতে পড়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার গাড়িতে ওঠার পর স্ক্যানার দিতে পর্যন্ত অস্বীকার করছেন। রিয়ার ভিউ মিররে তাঁকে দেখেই অনেকের মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। এমন আচরণে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে গেছেন শ্রুতি। তিনি জানান, এই ঘটনাগুলো তাঁর কাছে একেবারেই নতুন এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও।
এই প্রসঙ্গে শ্রুতি বলেন, ‘এটা ভীষণ চাপের একটা বিষয়। সবাই ভাবছে নিশা যদি স্ক্যাম করে নেয়। এটা যেন নিশার প্রতি মানুষের ভয়! লোকজন এরকম তটস্থ হয়ে থাকলে তো ভীষণ মুশকিল। আমি একজন সাদামাটা মানুষ, আমাকে যদি কেউ স্ক্যামার ভাবে তাহলে মহা বিপদ। আমি নিজেই খেটে রোজগার করি। আমি কেন কারও টাকা মারব?’ তাঁর এই কথায় স্পষ্ট, বাস্তব জীবনে এই ধরনের ভুল ধারণা তাঁকে সমস্যায় ফেলছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মিশকা’ থেকে ‘কুন্তলিনী’, ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ পর ‘তারে ধরি ধরি’তেও দাপুটে খলনায়িকা! একের পর এক নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয়, তবুও ক্লান্ত নন অহনা দত্ত! নায়িকা হওয়ার ইচ্ছে নেই, কী বললেন অভিনেত্রী?
তবে বিষয়টিকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখছেন না অভিনেত্রী। তিনি এটাকে নিজের কাজের সাফল্য হিসেবেও দেখছেন। তাঁর মতে, দর্শকরা যদি চরিত্রটিকে এতটা বাস্তব মনে করেন, তাহলে অভিনয় সফল হয়েছে বলেই ধরে নেওয়া যায়। এদিকে ধারাবাহিকের গল্পেও চলছে টানটান পরিস্থিতি। নিশা ও উজির সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে, আর সেই সংঘাত কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা জানতে আগ্রহী দর্শকরা।
