ছোটপর্দার ধারাবাহিকে কাজ মানেই দীর্ঘ সময় ধরে শুটিং ফ্লোরে কাটানো। দিনের বড় একটা অংশ স্টুডিয়োয় দিতে হয় অভিনেতাদের, ফলে অনেক সময় অন্য ভালো সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। তার উপর টেলিভিশনে কাজ করলে প্রায়ই একই ধরনের চরিত্রের প্রস্তাব আসতে থাকে। এতে অনেক অভিনেতাই ধীরে ধীরে একটি নির্দিষ্ট ইমেজে আটকে পড়েন। এই প্রবণতাকেই সাধারণত টাইপকাস্ট বলা হয়। বর্তমানে এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন অভিনেত্রী অহনা দত্ত।
অহনার অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল ‘অনুরাগের ছোঁয়া’ ধারাবাহিক দিয়ে। সেখানে তাঁর অভিনীত ‘মিশকা’ চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পায়। নেতিবাচক চরিত্র হলেও তাঁর উপস্থিতি ছিল নজরকাড়া। এরপর বড়পর্দাতেও সুযোগ পান তিনি। পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ‘সন্তান’ ছবিতেও তাঁকে খল চরিত্রে দেখা যায়। বর্তমানে ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ ধারাবাহিকেও তিনি একই ধরনের শক্তিশালী নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছেন।
পরপর এমন চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে বিরক্ত লাগছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অহনা স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কেরিয়ারের শুরুর দিকে কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ খুব একটা থাকে না। তিনি বলেন, “আমাদের কি এত বেছে কাজ করার সুযোগ আছে? অনেকেই ভাববেন একঘেয়েমি। কিন্তু, আমি একেবারেই ওই ভাবে ভাবছি না এখন। কারণ, এখন আমার কর্মজীবনের শুরু। এখন সুযোগ পেলেই তা লুফে নিতে হবে। তাই যেমনই পাই না কেন, সেটাকে ফেরাতে রাজি নই। আমি উপভোগ করছি। প্রথমে এক বার ভেবেছিলাম, পর পর আমি খলনায়িকাই হচ্ছি! কিন্তু তার পরে চিন্তা করে দেখলাম, মিশকা আর কুন্তলিনী একে বারে আলাদা। তাই এখন আর বিরক্তি আসে না।”
ব্যক্তিগত জীবনেও এই সময়টা বেশ ব্যস্ততার মধ্যে কাটছে তাঁর। মা হওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই তিনি আবার কাজে ফিরেছেন। শুটিংয়ের ফাঁকে সামান্য সময় পেলেই বাড়ি গিয়ে মেয়ের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন। সম্প্রতি তাঁর মেয়ের অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানও হয়েছে। ফলে এখন ধীরে ধীরে সন্তানের যত্ন নেওয়ার রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে, যা অভিনেত্রীকে কাজের ক্ষেত্রে একটু স্বস্তি দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ শুরু শেষের কাউন্টডাউন? এবার রাত ৯টা থেকে সরিয়ে ১১টা, ‘দাদামণি’কে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা! টিআরপি চাপেই কি খুব তাড়াতাড়ি আসতে চলেছে ধারাবাহিক বন্ধের সিদ্ধান্ত? কী বললেন মুখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রী?
অহনার স্বামী দীপঙ্কর রায় পেশায় রূপটানশিল্পী। দু’জনেই নিজেদের কাজের সময় ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যাতে মেয়ের দেখভাল ঠিকমতো করা যায়। এই মুহূর্তে অহনা যে কোনও ভালো সুযোগ গ্রহণ করতে প্রস্তুত। ভবিষ্যতে অভিজ্ঞতা বাড়লে তিনি চরিত্র বাছাই করে কাজ করতে চান বলেও জানিয়েছেন। আপাতত কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এগোতে চাইছেন তিনি।
