বাংলার ভোটযুদ্ধের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে যেমন চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই সমাজমাধ্যমেও চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। এ বারের নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত কেন্দ্র ছিল পানিহাটি। কারণ এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন আরজি কর কাণ্ডে আলোচনায় আসা অভয়ার মা রত্না দেবনাথ। মেয়ের উপর হওয়া নৃশংস অত্যাচারের বিচার চেয়ে তিনি রাজনীতিতে নামেন। তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ফল ঘোষণার দিন সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে জয় পান রত্না দেবনাথ। এরপরই তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
পানিহাটি কেন্দ্রে এ বার ছিল ত্রিমুখী লড়াই। একদিকে দীর্ঘদিনের জয়ী তৃণমূল প্রার্থী, অন্যদিকে বিজেপির মুখ হিসেবে রত্না দেবনাথ এবং বামেদের তরফে ছিলেন কলতান দাশগুপ্ত। শুরু থেকেই এই কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল। কারণ এখানে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি আবেগের বড় প্রভাব ছিল। ভোটের প্রচারে বহুবার উঠে এসেছে বিচার পাওয়ার দাবি। সাধারণ ভোটারদের একাংশও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ভোট গণনা শেষে শেষ হাসি হাসেন রত্না দেবনাথ। তাঁর জয়ের পর এলাকায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও নজরে পড়ে।
ফল প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন রত্না দেবনাথ। সেখানে তিনি লেখেন, “আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, আমি জিতলে গোটা পানীহাটিবাসী জিতবে।” এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নেটমাধ্যমে। তাঁর সমর্থকরা শুভেচ্ছা জানাতে শুরু করেন। অনেকে এই জয়কে সাধারণ মানুষের জয় বলেও উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক ফলাফলের পাশাপাশি এই পোস্ট আবেগঘন বার্তা হিসেবেও দেখা হয়। কারণ তাঁর দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের কথাও সেখানে উঠে আসে। পোস্টের নীচে বহু পরিচিত মুখও প্রতিক্রিয়া জানান।
সেই পোস্টেই মন্তব্য করেন অভিনেত্রী শ্রুতি দাস। ছোটপর্দা, বড়পর্দা ও ওয়েব মাধ্যমে কাজ করা এই অভিনেত্রী আগেও বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে সরব হয়েছেন। রত্না দেবনাথকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, “জেঠিমা প্রণাম। আপনার জন্য প্রার্থনা করেছিলাম। এবার আবার প্রার্থনার জোর বাড়ল। যেন ডক্টর দিদি বিচার পান।” শ্রুতির এই মন্তব্য ঘিরে নেটমাধ্যমে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর কথায় এখনও বিচার পাওয়ার প্রত্যাশাই স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে রত্না দেবনাথের জয়ে তিনি আনন্দিত বলেও বোঝা যায়।
আরও পড়ুনঃ এককালে সহ্য করেছিলেন ক’টুক্তি ও অপমান! তৃণমূল হারতেই, প্রা’ণের ভয় আর নিষেধাজ্ঞার স্মৃতি টেনে ‘দ্যা বেঙ্গল ফাইলস’ বাংলায় মুক্তির দাবি সৌরভ দাসের!
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঝড়, বৃষ্টি, গরম উপেক্ষা করে রাতের পর রাত মানুষ পথে নেমে বিচার দাবি করেছিলেন। সেই আন্দোলনে টলিউডের বহু শিল্পীও অংশ নেন। নাগরিক মিছিলেও দেখা গিয়েছিল একাধিক পরিচিত মুখকে। শ্রুতি দাসও সেইসব কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে দুই দফার ভোট শেষে ৪ মে গণনা ও ফল ঘোষণা হয়। গোটা বাংলায় বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জিতে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যায়।
