কয়েক দিন অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে কলকাতায় ফিরলেন অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিল ছোট ছেলে ইউভান। শুক্রবার বিকেলে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছোনোর পর পরিবারের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। দীর্ঘ সময় উদ্বেগে কাটানোর পর মেয়ে এবং নাতিকে কাছে পেয়ে আনন্দে ভরে ওঠে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার। স্ত্রী ও ছেলেকে নিরাপদে ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিচালক ও বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীও।
বিমানবন্দরে নেমে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শুভশ্রী। তিনি জানান, কঠিন সেই সময়ে সকলের ভালবাসা এবং সমর্থন তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। অভিনেত্রীর কথায়, ওই পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা এই মুহূর্তে বিস্তারিতভাবে বলা সম্ভব নয়। কারণ সেই সময়টা ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। তিনি বলেন, এখনও মানসিকভাবে বেশ ক্লান্ত এবং বিধ্বস্ত বোধ করছেন। একই সঙ্গে সকলকে ভাল থাকার শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় পরিবারের মধ্যে। মাকে দেখেই ছোট মেয়ে ইয়ালিনি ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। সেই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্ত্রী ও ছেলেকে সামনে পেয়ে রাজ চক্রবর্তীর মুখেও ফুটে ওঠে প্রশস্ত হাসি। দীর্ঘ কয়েক দিন উদ্বেগে কাটানোর পর পরিবারের সদস্যদের কাছে এই মুহূর্ত ছিল স্বস্তি এবং আনন্দের।
জানা গেছে, ইউভানের স্কুলের পরীক্ষা শেষ হওয়ায় সে মায়ের সঙ্গে দুবাই যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। ছেলের সেই আবদার পূরণ করতেই কয়েক দিনের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন শুভশ্রী। কিন্তু সেই সফর যে এমন ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে, তা কেউই কল্পনা করতে পারেননি। পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাওয়ায় তাঁদের সেখানে আটকে পড়তে হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ “আশাহত হয়েছি…না আছে গোরা-দিতির একান্ত মুহূর্ত, না ব্যবহার করছে বিশাখা-ইন্দুর মতো চরিত্রদের!” গল্প যেন এক জায়গাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে! ভিন্ন স্বাদের গল্প হলেও কেন প্রত্যাশিত টিআরপি পাচ্ছে না ‘তারে ধরি ধরি’? দর্শকদের পরামর্শে উঠে এল একাধিক কারণ!
শুভশ্রীর বাবা দেবপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাতের কারণে কিছু সময়ের জন্য আকাশপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যে হোটেলে শুভশ্রীরা ছিলেন, তার আশেপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। যদিও মা ও ছেলে নিরাপদেই ছিলেন, তবু তাঁদের না দেখা পর্যন্ত পরিবারের সবাই ভীষণ উদ্বেগে ছিলেন। অবশেষে নিরাপদে কলকাতায় ফেরায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দুই পরিবারই।
