জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘তুমি ছিলে অত্যন্ত সরল, ভুল মানুষকে বিশ্বাস করেছিলে…’, তাপস পালের জন্মবার্ষিকীতে স্ত্রী নন্দিনীর আবেগঘন চিঠি, ফিরে এলো অজানা পুরনো স্মৃতি

আজ বেঁচে থাকলে বয়স হতো ৬৮। কিন্তু সময়ের নিয়মে বহু বছর আগেই চলে গিয়েছেন বাংলা ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা তাপস পাল। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আচমকাই প্রয়াত হন তিনি। রেখে যান স্ত্রী নন্দিনী এবং একমাত্র মেয়ে সোহিনীকে। তাপস না থাকলেও তাঁর জন্মদিন এখনও পরিবারের কাছে বিশেষ একটি দিন। প্রতি বছরই স্বামীর জন্মদিন নিজের মতো করে পালন করেন নন্দিনী। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হল না। কেক কেটে, পুরনো স্মৃতিকে সঙ্গী করে প্রয়াত স্বামীকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক মাধ্যমে লিখলেন এক আবেগঘন খোলা চিঠি।

তাপস পালের জন্মদিন উপলক্ষে একটি কেকের ছবি পোস্ট করেন নন্দিনী। সেই ছবির সঙ্গেই স্বামীর উদ্দেশে নিজের মনের কথা তুলে ধরেন তিনি। নন্দিনীর লেখায় উঠে এসেছে তাঁদের দীর্ঘ দাম্পত্য, একসঙ্গে কাটানো সময় এবং মেয়ে সোহিনীকে ঘিরে নানা স্মৃতি। তাপস আজ শারীরিকভাবে পাশে না থাকলেও তাঁর উপস্থিতি যে এখনও নন্দিনীর জীবনে কতটা গভীর, সেই অনুভূতিই ধরা পড়েছে তাঁর কথায়। বিশেষ করে সম্প্রতি সোহিনীর ‘বিগ বস বাংলা’ সফরের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। মেয়েকে ওই ঘরে দেখার সময় তাঁর মনে হয়েছে, বাবা যেন অদৃশ্যভাবে সবসময় মেয়ের পাশে ছিলেন।

মেয়ের জন্মের সময় তাপসের আনন্দ, সোহিনীকে বড় করে তোলার দিনগুলির স্মৃতিও ফিরে এসেছে নন্দিনীর মনে। তাঁর কথায়, সময় এগিয়ে গেলেও কিছু স্মৃতি কখনও পুরনো হয় না। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের সেই টান আজও তাঁদের জীবনে তাপসের উপস্থিতি মনে করিয়ে দেয়। সোহিনী যখন ‘বিগ বস’-এর ঘরে ছিলেন, তখনও মেয়েকে নিয়ে নন্দিনীর মনে এক ধরনের নিশ্চিন্ত অনুভূতি ছিল। যেন দূর থেকেই তাপস তাঁর মেয়েকে আগলে রেখেছেন।

চিঠিতে তাপসের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও এসেছে। নন্দিনী লিখেছেন, তাপস ছিলেন খুব সাধারণ মনের মানুষ। সেই সরলতার কারণেই তিনি কিছু মানুষকে বিশ্বাস করেছিলেন এবং তার মূল্যও দিতে হয়েছিল। স্বামীকে নিজের মতো করে সতর্ক করার কথাও জানিয়েছেন নন্দিনী। তাঁর বক্তব্যে তাপসের জীবনের কঠিন সময়, মানুষের ভালোবাসা এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর প্রতি থাকা শ্রদ্ধার কথাও উঠে এসেছে। নন্দিনীর চোখে নানা বিতর্ক ও কঠিন সময়ের মধ্যেও তাপস ছিলেন এমন একজন মানুষ, যাঁর মধ্যে ছিল আলাদা এক স্বচ্ছতা।

সবশেষে স্বামীর কাছে নিজের জন্য আশীর্বাদ চেয়েছেন নন্দিনী। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত যেন মাথা উঁচু করে আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে পারেন, সেই শক্তিই চান তিনি। তাপস পালের স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়েই মেয়ে সোহিনীকে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন নন্দিনী। তাই জন্মদিনের এই দিনটিও তাঁর কাছে শুধুই উদ্‌যাপনের নয়, বরং পুরনো মানুষটিকে আরও একবার মনে করার দিন। তাপসের অনুপস্থিতি যতই দীর্ঘ হোক, নন্দিনীর জীবনে তাঁর জায়গাটি যে এখনও একই রকম রয়ে গিয়েছে, এই চিঠিতেই তার স্পষ্ট ছাপ মিলল।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page