বাংলা সিনেমায় এত বিস্তৃত পরিসরে শুটিংয়ের নজির খুব কমই রয়েছে। ২০২৪ সালে নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে বহুরূপী যে দাগ কেটেছিল, তা এখনও দর্শকের মনে টাটকা। কলকাতা থেকে বোলপুর, টাকি থেকে আজিমগঞ্জ, বাংলার নানা প্রান্ত বাস্তব রূপেই ধরা পড়েছিল ক্যামেরায়। মোট চুরাশি জায়গায় শুটিং করে ছবিটি এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল। এবার সেই সীমা ভেঙে আরও বড় পরিকল্পনা। বহুরূপী দ্য গোল্ডেন ডাকুতে শুটিং হবে ছিয়ানব্বইটি বাস্তব লোকেশনে। সংখ্যার নিরিখে এ এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ, যা বাংলা ছবির ক্যানভাসকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে চলেছে।
নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ঘিরেই তৈরি হয়েছে প্রবল কৌতূহল। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে যীশু সেনগুপ্তর উপস্থিতি ছবির আকর্ষণ বহুগুণ বাড়িয়েছে। প্রায় ন বছর পর তিনি আবার নন্দিতা শিবপ্রসাদের পরিচালনায়, উইন্ডোজ প্রযোজনায় ফিরছেন। পোস্তর পর এই পুনর্মিলন যেন আলাদা আবেগ বহন করছে। নির্মাতারা জানাচ্ছেন, আগের সাফল্যের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং গল্পকে আরও গভীরে নিয়ে যাওয়াই তাঁদের লক্ষ্য। চিত্রনাট্য নিয়ে এখনই চলছে নিবিড় কাজ, কারণ সোনার ডাকাতি ঘিরে রহস্যময় প্লটকে বিশ্বাসযোগ্য ও রোমাঞ্চকর করে তুলতে চাইছেন তাঁরা।
প্রথম ছবির জনপ্রিয় মুখ আবীর চট্টোপাধ্যায়, ঋতাভরী চক্রবর্তী, কৌশানী মুখোপাধ্যায় ও শিবপ্রসাদের অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। সিকুয়েলে ফিরছেন শিবপ্রসাদ ও কৌশানী, ফলে তাঁদের জুটিকে আবার বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষা বাড়ছে। পাশাপাশি বিক্রম প্রামাণিক ও ঝিমলিও থাকছে পরিচিত আবহে। তবে এবার গল্পের বিস্তার অনেক বড়। কলকাতার উপস্থিতি থাকবে খুবই কম, বরং মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূমের অজানা গ্রামাঞ্চল হয়ে উঠবে কাহিনির প্রধান প্রেক্ষাপট।
লাভপুরের বিষয়পুরে ননীচোরাদাস বাউলের গ্রামেও ফের শুটিং হবে, যা ছবির মাটির গন্ধকে আরও ঘন করবে। বাংলার গ্রাম, ইতিহাস আর লোকসংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে যাবে সোনার সন্ধানের রহস্য। প্রস্থেটিক্স ও মেকআপে পাপিয়া চন্দ, সিনেমাটোগ্রাফিতে অনিমেষ ঘড়ুই, সম্পাদনায় মলয় লাহা কাজ করছেন আগের মতোই নিষ্ঠায়। শিল্প নির্দেশনায় মৃদুল বৈদ্য ও শাশ্বতী কর্মকার, নাচের পরিকল্পনায় মঙ্গেশ খেড়েকর ছবির ভিজ্যুয়াল জগতকে সমৃদ্ধ করবেন।
আরও পড়ুনঃ “আমি সরতে চাইনি…রাগ নেই, শুধু অভিমান” ধারাবাহিক ‘চিরদিনই’ থেকে হঠাৎ বাদ ‘মীরা’, কারণ নিয়ে মুখ খুললেন তন্বী লাহা রায়! কেন প্রোডাকশন এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষ না জানিয়েই চরিত্রের ট্র্যাক শেষ করেছে? অভিনেত্রী জানালেন সমস্তটা!
সংগীতেও থাকছে চেনা আবহ। ননীচোরাদাস বাউল, বনি চক্রবর্তী, অনুপম রায়, শিলাজিৎ মজুমদার ও অর্ণব দত্ত মিলিয়ে তৈরি হবে সুরের জাল। সৃজনশীল প্রযোজক জিনিয়া সেন ও সহ প্রযোজক সঞ্জয় আগরওয়ালের তত্ত্বাবধানে মার্চ ও এপ্রিল জুড়ে চলবে শুটিং। লক্ষ্য একটাই, এ বছরের পুজোয় দর্শকের সামনে হাজির হওয়া। চুরাশি থেকে ছিয়ানব্বইয়ে পৌঁছে বহুরূপী শুধু সংখ্যায় নয়, স্বপ্ন আর সাহসেও আরও বড় হয়ে উঠছে।
