দু সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিয়ে বিতর্কে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি ও বিনোদন মহল। অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতায় ফিরে তিনি জানালেন, এত দিন তিনি শহরে ছিলেন না। চেন্নাইতেই কাটিয়েছেন সময়। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন তাই তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন। আদালতের প্রতি সম্মান রেখেই আপাতত চুপ থাকাই শ্রেয় বলে মনে করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, দু সপ্তাহ আগে এক মঙ্গলবার আচমকাই সমাজমাধ্যমে একাধিক ছবি পোস্ট করেন হিরণ। সেই ছবিতে দেখা যায়, বারাণসীর এক ঘাটে হিন্দুমতে ঋতিকা গিরির সঙ্গে বিয়ে করছেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র এবং শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে হিরণের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে। কারণ এরপরই সামনে আসেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়।
অনিন্দিতা দাবি করেন, হিরণের সঙ্গে তাঁর কোনও আইনি বিচ্ছেদ এখনও হয়নি। তাঁদের ১৯ বছরের এক কন্যাসন্তানও রয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসার পরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিষয়টি আইনি রূপ নেয় এবং বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় মামলাও দায়ের হয়। ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় ক্রমে রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়।
এই ঘটনার পর হিরণের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচিত ঋতিকা গিরিও সমাজমাধ্যমে মুখ খোলেন। তিনি জানান, পাঁচ বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন তাঁরা এবং এই সম্পর্কের কথা অনিন্দিতাও জানতেন। যদিও সেই পোস্ট কিছু সময়ের মধ্যেই মুছে দেন ঋতিকা। পরে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনও খ্যাতি বা আলোচনায় থাকতে চান না। সমস্ত বিতর্ক থেকে দূরে থাকাই তাঁর লক্ষ্য।
আরও পড়ুনঃ “বাবা-মায়ের দেওয়া নামটাই আমার পরিচয়” টলিউডে রয়েছেন একই নামের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী! ওটিটিতে দাপুটে উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও, ‘কালরাত্রি’-এর ‘মায়া’ ওরফে কৌশানি মুখার্জীর কাজ পেতে হচ্ছে কষ্ট? নাম বদলানোর কথা ভাবছেন তিনি?
এতদিন পুরো বিষয়টি নিয়ে নীরব ছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। অবশেষে সেই নীরবতা ভেঙে জানালেন, আপাতত রাজনৈতিক কাজের কারণেই তিনি কলকাতায় থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনের বিষয় আদালতের হাতেই ছেড়ে দিতে চান তিনি। বিতর্কের ঝড়ের মাঝেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে আইনি প্রক্রিয়ার উপরই ভরসা রাখছেন বিজেপি বিধায়ক।
