জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ওরা তো আমার ছেলেই…অনেক আশা ও প্রত্যাশা ওদের নিয়ে আমার” প্রতিযোগীদের মধ্যেই নিজের সন্তানের ছায়া খুঁজে পান কৌশিকী চক্রবর্তী! সারেগামাপা শেষ হতেই বিদায়বেলায় আবেগঘন গায়িকা! মায়ের মতোই আগলে রাখা, ভালোবাসা আর আশীর্বাদের কথায় মুগ্ধ দর্শকরা!

জনপ্রিয় শাস্ত্রীয় সংগীত গায়িকা ‘কৌশিকী চক্রবর্তী’ (Kaushiki Chakraborty) বহু বছর ধরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতাদের মুগ্ধ করে চলেছেন। মঞ্চের পাশাপাশি ছোটপর্দাতেও তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ। জনপ্রিয় সংগীত রিয়্যালিটি শো ‘সারেগামাপা’-র (Saregamapa) বিচারকের আসনে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগীদের সঙ্গে কাটানোর পর গ্র্যান্ড ফিনালে শেষ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে এক অন্যরকম আবেগ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই অনুভূতির কথাই অকপটে ভাগ করে নিলেন কৌশিকী। তাঁর কথায় স্পষ্ট, বিচারকের আসনে থাকলেও প্রতিযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কটা কেবল পেশাদারিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

কৌশিকী চক্রবর্তী শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পী নন, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন সুখী সংসারী। শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী পার্থসারথী দেশিকানের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন দুই দশকেরও বেশি সময়ের। তাঁদের একমাত্র ছেলে ঋষিও শিল্প চর্চার মধ্যেই বড় হচ্ছে। তবে নিজের পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতিও যে তাঁর আলাদা টান রয়েছে, সেটাই উঠে এল এই সাক্ষাৎকারে। তাঁর মতে, প্রতিযোগীদের সঙ্গে এতদিনের একসঙ্গে পথচলার পর বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ তৈরি হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

শো শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিযোগীদের থেকে দূরে সরে যাওয়ার অনুভূতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কৌশিকী বলেন, “ওদের ক্ষেত্রেও আমি যে খুব একটা আলাদা তা কিন্তু নয়। এখানে যেমন দুটি ছেলে আছে আয়ুষ ও রানা, ওরা তো আমার ছেলের মতোই। দরকারে বকাবকিও করি আবার হাসি-ঠাট্টাও করি, আদর করি। ওদের ক্ষেত্রেই ছেলের মায়ের মতোই অনুভব করি যে ওরাও একদিন বড় হবে, ওদের গানও শুনবে সবাই। নিজেদের গান গাইবে ওরা, সেটার জন্য ওদের পরিচয় হবে। সেই অভিভাবক হিসেবে প্রার্থনা, আশীর্বাদ আশা-ভরসা সবই ওদের উপর রয়েছে আমার।” তাঁর এই বক্তব্যে বিচারক ও প্রতিযোগীর সম্পর্কের বাইরেও এক গভীর মানবিক বন্ধনের ছবি ফুটে ওঠে।

আরও পড়ুন: ‘জাস্ট শাট আপ…জ্ঞান দেওয়ার দরকার নেই!’ বিবাহবার্ষিকীর দিনও স্বামী উদয়কে খোঁটা দিতে ছাড়লেন না অনামিকা চক্রবর্তী! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে কেন মেজাজ হারালেন অভিনেত্রী?

কৌশিকীর কথায়, একটি রিয়্যালিটি শো শুধু প্রতিযোগিতা নয়, দীর্ঘদিন একসঙ্গে শেখা, কাজ করা এবং একে অপরকে কাছ থেকে জানারও একটি যাত্রা। সেই সময়ে প্রতিযোগীদের সাফল্য যেমন আনন্দ দেয়, তেমনই ভুল হলে তাদের শাসন করাও নিজের দায়িত্ব বলেই মনে করেন তিনি। তাই অনুষ্ঠানের শেষ মানেই সম্পর্কের শেষ নয়। বরং ভবিষ্যতে তারা আরও বড় শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক, সেই কামনাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। নতুন প্রজন্মের গায়কদের প্রতি এই আন্তরিকতা তাঁর ব্যক্তিত্বের আরেকটি দিক তুলে ধরে।

সারেগামাপার মঞ্চে বিচারকের দায়িত্ব পালন করলেও কৌশিকী চক্রবর্তীর কথায় বারবার উঠে এসেছে একজন অভিভাবকের অনুভূতি। নিজের সন্তানকে যেমন মানুষ বড় হতে দেখে আনন্দ হয়, তেমনই এই তরুণ শিল্পীদের এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও তিনি নিজের মতো করেই দেখেন। তাই বিদায়ের মুহূর্তে মন খারাপ থাকলেও তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আশীর্বাদ, বিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশা। কৌশিকীর এই সহজ, আন্তরিক কথাগুলি অনেক দর্শকের মন ছুঁয়ে গিয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page