জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘জাস্ট শাট আপ…জ্ঞান দেওয়ার দরকার নেই!’ বিবাহবার্ষিকীর দিনও স্বামী উদয়কে খোঁটা দিতে ছাড়লেন না অনামিকা চক্রবর্তী! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে কেন মেজাজ হারালেন অভিনেত্রী?

টেলিভিশনের জনপ্রিয় দম্পতিদের তালিকায় অনামিকা চক্রবর্তী এবং উদয় প্রতাপ সিংয়ের নাম বরাবরই থাকে। পর্দার বাইরেও তাঁদের সহজ-সরল সম্পর্ক এবং মজার মুহূর্তগুলো অনুরাগীদের বেশ পছন্দের। দেখতে দেখতে দাম্পত্য জীবনের তিন বছর পূর্ণ করলেন এই জুটি। বিশেষ দিনটি উদযাপন করতে রবিবার মন্দারমণির উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। সফরের শুরুতেই অনামিকা একটি ভ্লগ শেয়ার করেন। সেই ভিডিওতে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক খুনসুটি ধরা পড়লেও, সেটিকেই কেন্দ্র করে এক নেটিজেন মন্তব্য করতেই বিষয়টি নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। শেষ পর্যন্ত সেই মন্তব্যের জবাব প্রকাশ্যেই দিতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে।

বর্তমানে ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’-র শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন উদয় প্রতাপ সিং। সেই প্রসঙ্গই উঠে আসে ভ্লগে। অনামিকা মজার ছলেই বলেন, “অনেক বছর পর আমরা ঘুরতে যাচ্ছি, প্রায় একশো বছর হয়ে গেল। আমার বর তো ভীষণ ব্যস্ত।” এর উত্তরে গাড়ি চালাতে চালাতেই উদয় জানান, তাঁকে নাকি চ্যানেলের পক্ষ থেকে প্রায় দশ দিনের ছুটি নিয়ে মালদ্বীপ যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধারাবাহিকের কাজের ক্ষতি হোক, তা তিনি চাননি। তাই দীর্ঘ সফরের বদলে মাত্র দু’দিনের ছুটি নিয়ে মন্দারমণি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে অনামিকা সঙ্গে সঙ্গেই মনে করিয়ে দেন, সেটাও আসলে পুরো দু’দিন নয়, মাত্র এক রাতের সফর।

অনামিকার কথায়, সকাল সাতটায় বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলেও উদয়ের দেরির কারণে তাঁদের রওনা দিতে সকাল সাড়ে দশটা বেজে যায়। তাই দিনের আলোয় সমুদ্র ঠিকমতো দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়েও মজার ছলে আক্ষেপ করেন তিনি। হাসতে হাসতেই বলেন, “ও কোনওদিন সময়মতো উঠতে পারেনি, কিছুই করতে পারেনি।” স্বামী-স্ত্রীর এই হালকা মেজাজের কথোপকথনই এক নেটিজেনের ভালো লাগেনি। তিনি মন্তব্য করেন, “তুমি সবসময় ওকে কেন খোঁচা দাও? অন্তত ও তো এই সুন্দর ট্রিপটার জন্য সময় বের করেছে। বাড়িতেও থাকতে পারত। মালদ্বীপ হোক বা মন্দারমণি, একসঙ্গে ভালো সময় কাটানোই তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দয়া করে একে অপরের সঙ্গটা উপভোগ করো।”

এই মন্তব্যের পর আর চুপ থাকেননি অনামিকা। ওই নেটিজেনকে সরাসরি ট্যাগ করে তিনি লেখেন, “জাস্ট শাট আপ! আমাদের মধ্যে কী ধরনের রসিকতা হয়, সেটা আপনাকে বোঝানোর কোনও দায় আমার নেই। যেখানে আপনার কোনও কাজ নেই, সেখানে নাক গলাবেন না।” অভিনেত্রীর এই স্পষ্ট জবাব মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মনে করেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে বাইরের মানুষের অযাচিত মন্তব্যের এমন উত্তর দেওয়াই উচিত ছিল। আবার অনেকে অনামিকার স্পষ্টভাষী মনোভাবের প্রশংসাও করেন।

শুধু অনামিকাই নন, তাঁর অনুরাগীরাও ওই নেটিজেনের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। ‘অনু কুইন্স’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, “আপনাকে এত জ্ঞান দিতে কে বলেছে? ওরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে কথা বলবে, সেটা কি আপনিই ঠিক করে দেবেন?” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও উঠে এসেছে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়তে থাকা অনধিকার চর্চার বিষয়টি। অনামিকার স্পষ্ট বার্তা অনেকের কাছেই এই ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ক্যামেরার সামনে থাকা মানুষদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও সীমা ছাড়িয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তাই বিবাহবার্ষিকীর দিন একটি সাধারণ খুনসুটি থেকেই শুরু হওয়া ঘটনা শেষ পর্যন্ত নেটদুনিয়ায় বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page