জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“শাশুড়ি বুনো ওল, আমিও বাঘা তেঁতুল!” দিতির স্বাবলম্বী হওয়ার জেদে জমছে শাশুড়ি-বৌমার সংঘাত, কোমরে আঁচল গুঁজে নেমেছে ময়দানে! “এ তো দেখি, নিম ফুলের তারকাটা পর্ণার পুনর্জন্ম” বলছেন দর্শকরা! ‘তারে ধরি ধরি’তে উত্তেজনা তুঙ্গে!

জি বাংলার ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’র (Tare Dhori Dhori Mone Kori) গল্প বর্তমানে এক অদ্ভুত আবেগ আর টানাপড়েনের মোড়ে দাঁড়িয়ে। শ্রীচৈতন্য ও বিষ্ণুপ্রিয়ার আখ্যানকে পটভূমি করে গড়ে ওঠা এই গল্পে গোরাচাঁদ গোস্বামী ও রূপমঞ্জুরীর সম্পর্ক যেমন আধ্যাত্মিক, তেমনই ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে ভরা। গোরার চরিত্রে বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দ্বৈত ভূমিকায় পল্লবী শর্মার জুটির অভিনয় গল্পকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে মূল আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দিতির মানসিক অবস্থান এবং তার নতুন করে সংসারে নিজের জায়গা করে নেওয়ার লড়াই।

স্মৃতিহীন অবস্থায় বাড়িতে আসার পর দিতি ধীরে ধীরে নিজেকে রূপ বলেই ভাবতে শুরু করেছে। সে জানে না অতীতে ঠিক কী ছিল, কোন নিয়ম মানত আর কোনটা মানত না। সংসারের জটিল সমীকরণ তার অজানা, তাই সে সরল বিশ্বাসেই এগিয়ে আসে। কখনও পূজোর আয়োজনের দায়িত্ব নিতে চায়, কখনও শাশুড়িকে বিশ্রাম দিতে খাবার পরিবেশনের কাজ হাতে তুলে নেয়। তার কাছে এগুলো ভালোবাসা আর দায়িত্বের প্রকাশ, কিন্তু বাড়ির বড়দের চোখে বিষয়টা অন্য রকম। বিশেষ করে শাশুড়ির মনে সন্দেহের বীজ বোনা শুরু হয়।

তিনি ভাবতে থাকেন, ছেলের বউ বুঝি ধীরে ধীরে সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে! এই অস্বস্তি থেকেই শুরু হয় টানাপড়েন। দিতির প্রতিটি আগ্রহ যেন শাশুড়ির কাছে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ দিতির মধ্যে কোনও কৌশল বা চাতুর্য নেই, সে কেবল নিজের মতো করে মানিয়ে নিতে চাইছে। এর মাঝেই তার মাথায় আসে স্বাবলম্বী হওয়ার ইচ্ছে। ধারাবাহিকের সম্পত্তি প্রকাশিত প্রোমোতে দেখা গেল, গোস্বামী বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী বাইরের জগতে কাজ করার অনুমতি নেই, তবু দিতি ঠিক করে গান গেয়ে নিজের পরিচয় গড়ে তুলবে।

এই সিদ্ধান্তেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শাশুড়ি সাফ জানিয়ে দেন, এই বাড়ির বউ বাইরে গান গাইতে পারে না। সংঘাত চরমে পৌঁছায় যখন শর্ত উঠে আসে যে বাড়িতে থাকবে হয় মা, নয়তো বউ! এই কঠিন পরিস্থিতিতে দিতি নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকে। সে বাড়ি ছেড়ে বাইরে থাকার ব্যবস্থা করে এবং স্পষ্ট জানায়, নিজের পছন্দ আর স্বপ্ন সে ছাড়বে না। গোরার জন্য প্রতি মুহূর্ত হয়ে ওঠে সবচেয়ে কঠিন। একদিকে মা, অন্যদিকে স্মৃতিহীন অথচ নির্ভেজাল ভালোবাসায় ভরা দিতি।

পরিবারের মান-সম্মানের কথা ভেবে সবাই তাকে ঘরে ফেরাতে চাইলেও দিতি শর্ত তোলে, তাকে গান গাইতে দেওয়ার স্বাধীনতা দিতে হবে। দিতি জানিয়ে দেয়, শাশুড়িকে পথে আনার রাস্তা তার জানা। শাশুড়ি যদি বুনো ওল হন তো সেও বাঘা তেঁতুল! শাড়ির আঁচল কোমরে গুজে অদৃশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে দিতি। এবার গল্প, দিতির আত্মপরিচয় খোঁজার যাত্রাকে কেন্দ্র করেই হয়তো এগোবে। সে কি সত্যিই রূপের জায়গা পূরণ করতে পারবে, নাকি নিজের আলাদা সত্তা গড়ে তুলবে? এই প্রশ্নই সামনে আসছে বারবার।

সরল মন নিয়ে সংসারের ঘোর প্যাঁচের মধ্যে পড়ে যাওয়া দিতি এখন শুধু ভালোবাসা নয়, নিজের স্বপ্ন আর সম্মানের দাবিতেও দৃঢ়। আর সেখানেই ধারাবাহিকটি নতুন মাত্রা পাচ্ছে। তবে, দিতির এই নতুন রূপের সঙ্গে দর্শকরা মিল খুঁজে পাচ্ছেন পল্লবীর আগের ধারাবাহিক ‘নিম ফুলের মধু’র পর্ণার সঙ্গে! শেখানো শাশুড়ি-বৌমার দ্বন্দ্ব দিয়ে শুরু হয়েছিল ধারাবাহিকের গল্প। এমনই শাশুড়ির প্রতিটা অযৌক্তিক শর্ত ভাঙতে, কোমরে আঁচল গুঁজে ময়দানে নেমে পড়তো পর্ণা। দর্শকরা তাই সমাজ মাধমে লিখছেন, “এ তো দেখি আমাদের তারকাটা পর্ণার পুনর্জন্ম হয়েছে অদ্বিতীয়া রূপে! এবার জমবে খেলা!”

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page