জি বাংলার ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’তে (Jowar Bhanta) গল্প যতই ধীর গতিতে এগিয়ে চলুক, কিন্তু মাঝে মাঝে নিশার এক একটা ভয়ংকর পরিকল্পনা এবং ঋষির থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা যেন দর্শকদের উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে পৌঁছে দেয়। এইসব পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে গিয়েই নিশা আর ভানু একাধিকবার বিপদের মুখে পড়েছে, তবে একবারও পুলিশ ধরতে পারেনি তাদের!
প্রথমত, যত রকমের বেআইনী কাজ হতে পারে, সব নিশার নখদর্পণে আর বাস্তবে যে কাজ করতে মানুষের একবার অন্তত হাত কেঁপে, নিশা সেগুলো অবলীলায় করে ফেলে! সেটা হতে পারে ছদ্মবেশে কলকাতায় এসে বোনের বিয়ে দেওয়াই হোক বা ১৩ কোটি টাকার গয়না ডাকা’তি, কোনও কিছুতেই পুলিশের হাতের নাগালে থেকেও ধরা পড়েনি সে। কয়েকবার বোন উজি সাহায্য করেছে ঠিকই, তবে সেগুলো স্বাভাবিক বলেই মনে হয়েছে দর্শকদের।
কিন্তু, বর্তমানে যেভাবে অবাস্তবতা দেখিয়ে নিশাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হচ্ছে, সেটা নিয়েই দর্শকদের আপত্তি! প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই আসানসোলে ভিত পুজোর সময় যখন বিস্ফো’রণ ঘটিয়ে প্রায় জিৎ বসুর কাছে ধরা পড়ে গিয়েছিল, তখন পায়ে গু’লি খেয়েও সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হয় নিশা! পরে আবারও যখন জিৎ বসু নিশাকে সন্দেহ করে পা দেখতে চায় ক্ষত আছে কিনা, তখন নিশা মেকআপ দিয়ে ক্ষত ঢেকে পা দেখায়।
ঠিক তেমনই, গল্পের নতুন মোড়ে নিশার দাদা বিতানকে খু’নের অভিযোগে ঋষি গ্রে’প্তার হয়েছে। দাদার জন্য বিচার চাই ঠিকই, তবে মিথ্যে পরিচয় যেন ধরা না পড়ে যায়। তাই জিৎ বসু যখন পুলিশ পাঠায় বিতানদের বাড়ি খোঁজ করতে, নিশার ভাড়া করা মিথ্যে প্রতিবেশী অন্যরকম তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে দেয় পুলিশকে! এখানেই ক্ষোভ উগরে দর্শকরা বলছেন, ‘গল্পের লেখক মনে হয় জানেন না যে ভোটার তালিকা খুঁজলেই সবার পরিচয় পাওয়া যায়!’
আরও পড়ুনঃ “যখনই আমি মানুষ হয়ে জন্মাবো, তখন যেন গরিমার মতো সন্তান পাই” – অকপট অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! তার জীবনের দিশারী হিসেবে কিভাবে তার ছোট্ট মেয়ে তাকে পথ দেখান এবার সেটাই প্রকাশ্যে জানালেন অভিনেত্রী!
অনেকেই বলছেন, ‘ধারাবাহিকের সব কিছুই ভালো, শুধু নিশাকে যেন-তেন করে অপরাধী হওয়া সত্ত্বেও, পুলিশের থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া। তাও যদি সঠিক যুক্তি দেখিয়ে বাঁচাতো, তাহলে কোনও সমস্যাই হতো না কিন্তু প্রত্যেকবারে যেভাবে বাঁচানো হচ্ছে, সেগুলো মোটেই হজম করা যাচ্ছে না!’ অন্যজনের কথায়, ‘নিশাকে বাঁচাতে পুলিশকে এক্কেবারে কাঠের মূর্তি বানিয়ে রেখে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ আসানসোলে খোঁজ করতে গেল, ডবল চেক করবো না? যেখানে কেসটা এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ!’ সব মিলিয়ে ধারাবাহিকটি আবারও বিতর্কে কেন্দ্র।
