টলিউডের অভিনেতা ‘রুদ্রনীল ঘোষ’ (Rudranil Ghosh) নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে বরাবরই আলাদা ভাবে নজর কেড়েছেন। ছোট পর্দা, বড় পর্দা কিংবা রাজনীতির মঞ্চ, সব জায়গাতেই তাঁর দৃঢ় উপস্থিতি আজ আর কারও অজানা নয়। তবে এবার এক পডকাস্ট শোতে এসে নিজের কেরিয়ারের প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে ফের চর্চায় অভিনেতা। চেহারার ভিত্তিতে শিল্পীকে মূল্যায়নের ধারাটিকে আক্রমণ করে রুদ্রনীল জানিয়েছেন, তিনি নিজেও এই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন।
রুদ্রনীলের বক্তব্য, অভিনয়ের শুরুতে তাঁকে বারবার চেহারা আর গায়ের রঙের জন্য হেয় করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে যেসব অভিনেতাদের চেহারা ‘সুন্দর’ বলে বিবেচিত, তাঁদের জন্য বরাদ্দ থাকত কাচের কাপ, আর রুদ্রনীলের হাতে দেওয়া হত প্লাস্টিকের কাপ! শুধু তাই নয়, একবার সেই কাপের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তর মেলে, ‘‘সবাই এক রকম নয়।’’ এমন অপমান সত্ত্বেও তিনি থেমে যাননি, বরং নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেই এগিয়েছেন।

সেই সময়ে বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘১ নম্বর মেশবাড়ি’-তে পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায়, চন্দন সেন এবং শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়দের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাকরের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকমনে স্থায়ী ছাপ ফেলেছিলেন রুদ্রনীল। ছোট চরিত্র হলেও, তাতে ছিল শক্তি আর অভিনয়ের জোর। তাঁর মতে, চরিত্রের দৈর্ঘ্য নয় বরং গভীরতাই একজন শিল্পীর আসল পরিচয়।
তবে তিনি এদিন একথাও স্বীকার করেছেন যে বর্তমান সময়ে এই ধরনের বৈষম্য কিছুটা হলেও কমেছে, তবে সম্পূর্ণ মুছে যায়নি। চেহারার উপর ভিত্তি করেই এখনো অনেক অভিনেতা টাইপকস্টের শিকার হন অর্থাৎ, এক ধরণের রোলেই আটকে থাকেন তাঁরা, শুধু চেহারার ভিত্তিতে তাঁদের অভিনয় ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়। ইন্ডাস্ট্রির উন্নতির জন্য এই সমস্ত কিছুকে দূরে সরিয়ে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রূপসার পথেই মানসী! দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের তিন মাসেই কাজে ফিরলেন মানসী সেনগুপ্ত! কোন চরিত্রে দেখা যাবে এবার?
রুদ্রনীলের এই বক্তব্য আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে, গ্ল্যামারের পেছনে শিল্পীদের যন্ত্রণাও থাকে গভীর। সকলের নজরে থাকা এই মানুষগুলোর লড়াই অনেক সময় পর্দার বাইরেও কম নয়। রুদ্রনীলের মতো সাহসী কণ্ঠেরা সেই অন্ধকার দিকগুলো প্রকাশ্যে এনে আসল বাস্তবতা তুলে ধরেন। আর এই কারণেই তিনি শুধু অভিনেতা নন, এক জন ‘শিল্পী’ হিসেবেও প্রশংসার দাবি রাখেন।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত মতামত, মন্তব্য বা বক্তব্যসমূহ সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি মাত্র। এটি আমাদের পোর্টালের মতামত বা অবস্থান নয়। কারও অনুভূতিতে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, এবং এতে প্রকাশিত মতামতের জন্য আমরা কোনো প্রকার দায়ভার গ্রহণ করি না।
