নতুন বছরের শুরুতে ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিককে ঘিরে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই নাম, ‘গোপাল’ ওরফে অভিনেতা ‘দ্রোণ মুখোপাধ্যায়’ (Dron Mukherjee)। গত পর্বে হঠাৎ করেই এই চরিত্রের পরিণতি দেখে দর্শকদের একটা বড় অংশ মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল না। বসু বাড়িতে যখন আনন্দের পরিবেশ, নাচ-গান চলছে, ঠিক তখনই গোপালের অসুস্থ হয়ে পড়া যেন গল্পের গতিপথ একেবারে বদলে দিল! নাচের মাঝেই বুকে ব্যথা, তারপর ধীরে ধীরে মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য অনেকের কাছেই অপ্রত্যাশিত ছিল।
মৃ’ত্যুর মাধ্যমে গোপালের চরিত্র শেষ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ আর দুঃখ মিলেমিশে গেছে দর্শকদের মনে। গোপাল এমন একটা চরিত্র ছিল, যে অজান্তেই গল্পের সবচেয়ে শক্ত চরিত্রের জায়গা তৈরি করেছিল। মুখ্য চরিত্র না হয়েও তার সরল ব্যবহার, কথাবার্তার ভঙ্গি আর পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা দর্শকদের আপন করে নিয়েছিল। গ্রামের এক সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, স্ত্রীর প্রতি আনুগত্য মিলিয়ে সে ছিল খুব চেনা একজন মানুষ।
অনেকেই বলছেন, ধারাবাহিকটা তারা নিয়ম করে দেখতেন মূলত এই চরিত্রটার জন্যই! তাই এত জনপ্রিয় একটা চরিত্রকে এভাবে বিদায় জানানোটা মেনে নিতে পারছেন না অনেকে। প্রসঙ্গত, দিন দুয়েক আগে অভিনেতা সুব্রত গুহ রায় একটি পোস্ট করে এই আশঙ্কার কথা প্রথম জানিয়েছিলেন। সাদা-কালো ছবির সঙ্গে লেখা কয়েকটা শব্দ যেন আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল কোনও বিদায়ের কথা। তখন হয়তো পুরো বিষয়টা পরিষ্কার ছিল না।
কিন্তু এখন গল্পের এই মোড়ের পর সেই লেখার মানে খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা। দ্রোণ মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়যাত্রার কথা ভাবলে গোপাল চরিত্রটা তাঁর কেরিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আগে কিছু চরিত্রের জন্য দর্শকের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়লেও, ‘পরিণীতা’তে এসে তিনি যে কতটা অনুভবপ্রবণ অভিনয় করতে পারেন, তা প্রমাণ করেছেন। এই চরিত্রের জন্য টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পাওয়াটাও সেই স্বীকৃতিরই অংশ। পুরস্কার না এলেও, দর্শকের ভালোবাসা যে তাঁর ঝুলিতে জমা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আরও পড়ুনঃ আট বছর পর জিতের সঙ্গে একই ছবিতে আবার কাঞ্চন, শুটিং সেটে ফিরে এলো সেই বন্ধুত্বের পুরনো দিন! আবেগপ্রবণ অভিনেতা
তবে, গল্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ দর্শকেরাও স্পষ্ট ভাষায় নিজেদের মত জানাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন, ‘গোপালের মতো চরিত্রের এমন পরিণতি না হলেও পারত!’ কেউ কেউ তো রীতিমতো জানিয়ে দিয়েছেন, ‘এই চরিত্র না থাকলে আর ধারাবাহিক দেখব না।’ আবেগের এই প্রতিক্রিয়াগুলোই আসলে প্রমাণ করে, গোপাল কতটা গভীরভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল। চরিত্রটা থাকুক বা না থাকুক, দর্শকের স্মৃতিতে সে যে অনেকদিন থেকে যাবে, তা বলাই যায়।
