জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“যখনই আমি মানুষ হয়ে জন্মাবো, তখন যেন গরিমার মতো সন্তান পাই” – অকপট অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়! তার জীবনের দিশারী হিসেবে কিভাবে তার ছোট্ট মেয়ে তাকে পথ দেখান এবার সেটাই প্রকাশ্যে জানালেন অভিনেত্রী!

নীরব ভালোবাসার গল্প অনেক সময় আলোচনার বাইরে থেকেই যায়। পর্দার সামনে যাঁদের আমরা আত্মবিশ্বাসী ও শক্ত মানুষ হিসেবে দেখি, বাস্তব জীবনে তাঁদের লড়াই, ভাঙা-গড়ার গল্প খুব কমই সামনে আসে। অভিনেত্রী মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনও ঠিক তেমনই।

অভিনয়ের দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠা পেতে গিয়ে অনেক ব্যক্তিগত মুহূর্ত হারাতে হয়েছে মল্লিকাকে। সংসার ভাঙার পর একা হাতে মেয়েকে মানুষ করা সহজ ছিল না। কাজের চাপে, রোজগারের দায়িত্বে বহুদিন বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। সেই সময়ে পরিবার বলতে কার্যত দু’জনই—মা ও মেয়ে। এই সম্পর্কটা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে বন্ধুত্বের, নির্ভরতার, একে অপরের ভরসার।

এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ মঞ্চে এসে নিজের জীবনের একেবারে অন্দরমহলের কথা খুলে বলেন মল্লিকা। অভিনেত্রীর কণ্ঠে উঠে আসে আক্ষেপ আর কৃতজ্ঞতার মিশ্র অনুভূতি। তিনি জানান, “যে সময় বাবার ভালোবাসা পাওয়ার দরকার ছিল, সেই সময় গরিমা তা পায়নি।” কাজের চাপে তিনি তখন বাইরে যেতেন, আর ছোট মেয়েটিই নীরবে সব সামলে নিত।

মল্লিকার কথায় স্পষ্ট, মেয়ে গরিমা শুধুই সন্তান নয়, বরং তাঁর জীবনের দিশারী। দ্বিতীয়বার বিয়ে করার সময় দ্বিধায় ভুগলেও গরিমাই মাকে সাহস দেন। শুধু মানসিক সমর্থন নয়, বিয়ের আয়োজন থেকে শুরু করে সবকিছুর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয় সে। চিকিৎসক ও পরিচালক রুদ্রজিৎ রায়ের সঙ্গে মল্লিকার নতুন জীবন শুরু হওয়ার পেছনে গরিমার ভূমিকাই ছিল সবচেয়ে বড়।

সব শেষে অভিনেত্রীর কণ্ঠে শোনা যায় এক মায়ের গভীর প্রার্থনা—“যখনই আমি মানুষ হয়ে জন্মাবো, তখন যেন গরিমার মতো সন্তান পাই।” এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে মা-মেয়ের সম্পর্কের গভীরতা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page