জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“সফল কাজ ছেড়ে কেউ সহজে বেরোয় না, ওই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তটা একান্তই আমার ছিল!” গোপালের আকস্মিক বিদা’য়, ‘পরিণীতা’ ছাড়ার কারণ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন গোপাল ওরফে দ্রোণ মুখোপাধ্যায়!

বছরের শুরুতেই ‘পরিণীতা’ (Parineeta) ধারাবাহিকের দর্শকদের মনে, আবেগের ঢেউ! গোপাল চরিত্রের আকস্মিক বিদায় কেউ মানতে পারছেন না। অনেকেই বলেছেন, এই চরিত্র না থাকলে ধারাবাহিক দেখা অব্যাহত রাখা কঠিন হবে! অভিনেতা ‘দ্রোণ মুখোপাধ্যায়’ (Dronn Mukherjee) এই চরিত্রে এমন প্রাণবন্ত আবেগ ফুটিয়েছেন যা তাকে ধারাবাহিকের অন্যতম প্রধান চরিত্রে পরিণত করেছে। হঠাৎ পছন্দের চরিত্র মৃ’ত্যু দিয়ে শেষ হওয়ার পর, দর্শকদের মধ্যে হতাশার থেকেও বেশি করে জন্ম নিয়েছে নানান প্রশ্ন? কেউ বলছেন, অভিনেতার সঙ্গে হয়তো প্রোডাকশন হাউজের কোনও মতবিরোধ হয়েছিল।

অন্যরা বলছেন, অভিনেতা হয়তো নতুন কোনও কাজের প্রস্তাব পেয়েছেন বলেই এই চরিত্রকে বিদায় জানালেন। সমাজ মাধ্যম কার্যত উত্তাল এই নিয়ে। সব কিছুর ইতি টেনে, এদিন নিজেই সামনে এসে উত্তর দিলেন দ্রোণ। এদিন তিনি বলেন, “সত্যিই খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। যত দেখছি আর অবাক হচ্ছি যে এত মানুষ আমার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছেন! পরিণীতা টিম থেকে শুরু করে প্রোডাকশন হাউজ, কেউ আমাকে ছেড়ে দিতে চাইনি। বরং, এই সিদ্ধান্ত আমার একান্ত ব্যক্তিগত। কেউ আমাকে জোর করেনি, চরিত্রটা ছেড়ে বেরিয়ে আসার জন্য।

না এই মুহূর্তে আমার হাতে কোনও কাজ আছে, যার কারণে হঠাৎ করে বেরিয়ে আসতে হবে। মতবিরোধ তো দূরের কথা, কোনও খারাপ মুহূর্ত মনে পড়ে না, শুটিংয়ে আমার সঙ্গে হয়েছে। শেষ দিনের দৃশ্যে যখন হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে আছি, শুটিং ফ্লোরে একটা পিন পড়লেও খুঁজে পাওয়া যাবে এমন নীরবতা ছিল! মেকআপ আর্টিস্টরা হাতে গ্লিসারিন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কারোর সেটার প্রয়োজনও হয়নি! আমার নিজের আত্মীয়রা ওই অবস্থায় দেখলে যেমন প্রতিক্রিয়া দিত, সবাই ঠিক তেমনি করছিল।” তিনি আরও যোগ করলেন, “কেউ চায় না।

এত একটা সফল কাজের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসতে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় মানুষকে দাঁড় করায়, যে সেই মুহূর্তে কঠিন মনে হলেও জরুরী সিদ্ধান্তটা নিতেই হয়। একটা গল্পের ভিত্তি করেই তো ধারাবাহিক এগাতে থাকে। হয়তো সময় সময় সেটা বিভিন্ন দিকে ঘোরে আর সেই জন্য কিছু চরিত্রের প্রয়োজন হয়। তবে বেশ কিছুদিন ধরে, আমি যেটা লক্ষ্য করেছি যে গোপালের খুব একটা প্রয়োজন হচ্ছিল না। বরং বলা ভালো গল্পকে কেন্দ্রে স্থির রাখতে, আর ব্যবহার করা যাচ্ছিল না গোপালকে।

আমার এই ভাবনার কথা আমি যখন প্রোডাকশনের সঙ্গে ভাগ করি, তারাও সহমত হন। তারাই জানান যে গোপাল চরিত্র আমাকে দিয়েই শুরু বলে, আমাকে দিয়েই শেষ করা হবে। সেই মতোই গল্প লেখা হয়। সব সময় আমি খুব সহায়তা পেয়েছি সবার থেকে। কোন তিক্ততা নিয়ে নয় বরং, একরাশ ভালোলাগা নিয়ে বিদায় জানিয়েছি।” এদিন অভিনেতার কথায় স্পষ্ট ছিল, তিনি কোন রকম সমালোচনা চাইছেন না। বরং আগামী দিনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন পরিণীতা টিমকে। হয়তো অভিনেতার জীবনে আরো অনেক ভালো চরিত্র আসবে, তবে গোপাল দর্শকদের হৃদয় থেকে যাবে আজীবন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page