বাংলা ছবির ইতিহাসে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর জুটি মানেই একসময় ছিল উত্তেজনা আর জনপ্রিয়তার জোয়ার। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ফের একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন এই দুই মহারথী। তাঁদের পুনর্মিলন শুধু একটি নতুন ছবির খবর নয়, বরং বহু দর্শকের কাছে এটি এক গভীর আবেগের প্রত্যাবর্তন। নব্বইয়ের দশকে যাঁদের যুগলবন্দি বড়পর্দায় একাধিক হিট ছবি উপহার দিয়েছে, এবার তাঁরা ফিরছেন সম্পূর্ণ আলাদা আবহে এবং ভিন্ন সম্পর্কের গল্প নিয়ে।
১৯৮৯ সালে শত্রুপক্ষ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করেছিলেন প্রসেনজিৎ ও চিরঞ্জিত। তারপর একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। রক্ত নদীর ধারা, ভাই আমার ভাই, সিঁদুর খেলা এবং গোলা বারুদ এই ছবিগুলি আজও বাংলা ছবির স্বর্ণযুগের অংশ হিসেবে স্মরণীয়। কিন্তু ২০০১ সালের পর দীর্ঘ সময় তাঁদের আর একসঙ্গে দেখা যায়নি, ফলে ভক্তদের মনে সেই আক্ষেপ থেকেই গিয়েছিল।
অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে চন্দ্রাশিস রায়ের পরিচালনায় তৈরি ছবি বিজয়গড়ের হীরে। এই ছবিতে প্রসেনজিৎ অভিনয় করছেন কাকাবাবুর চরিত্রে, যা দর্শকের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। অন্যদিকে চিরঞ্জিত রয়েছেন কাকাবাবুর ঊর্ধ্বতন অফিসারের ভূমিকায়। তিনি কাকাবাবুকে রহস্যের জট ছাড়াতে সাহায্য করবেন। যদিও তাঁর উপস্থিতি ধারাবাহিক নয়, তবুও গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলিতে তাঁর অভিনয় ছবিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
বর্তমান সময়েও দুজনেই নিজেদের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে প্রমাণ করে চলেছেন যে তাঁরা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। প্রসেনজিৎ একের পর এক ছবিতে নানা ধরনের চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরছেন। অন্যদিকে চিরঞ্জিত ধুমকেতু, হাটি হাটি পা পা এবং নিকষ ছায়া ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ভাদুড়ী মশাই চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে আলাদা দাগ কেটেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘জীবনটাকে উপভোগ করতে হবে…বিয়ের পরে সংসার-সন্তান, অনেক চাপ!’ বেড়ে যাচ্ছে বয়স, তাও বিয়ে কেন নয়? খোলাখুলি জানালেন অঙ্কুশ আর ঐন্দ্রিলা!
সব মিলিয়ে বিজয়গড়ের হীরে শুধুমাত্র একটি নতুন ছবি নয়, বরং বাংলা ছবির দুই স্তম্ভকে আবার একসঙ্গে দেখার সুযোগ। বক্স অফিসে ছবিটি কতটা সাফল্য পাবে তা সময়ই বলবে। তবে প্রিয় দুই তারকাকে একই ফ্রেমে দেখে দর্শক যে নস্টালজিয়ায় ভাসবেন, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
