জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’তে (Tare Dhori Dhori Mone Kori) প্রতিটা পর্বেই একটা পর একটা মোড় এসেই চলেছে। গল্প এত দ্রুত গতিতে এগাচ্ছে যে একটা পর্ব না দেখলে, পরের দিন কিছুই বোঝা যাবে না! গল্পের পটভূমি মূলত, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু এবং বিষ্ণুপ্রিয়ার আখ্যানের উপর নির্মিত। যেখানে এই গল্পের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম গোরাচাঁদ গোস্বামী, এই চরিত্রে অভিনয় করছেন বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Biswarup Bandyopadhyay)।
অন্যদিকে গল্পে দ্বৈত চরিত্রের রয়েছেন অভিনেত্রী ‘পল্লবী শর্মা’ (Pallavi Sharma)। গল্পে একাধারে পল্লবী, আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর রূপমঞ্জুরী। অন্যদিকে, আধুনিকা এবং নাস্তিক অদ্বিতীয়া। গল্পে যদিও রূপমঞ্জুরী বিশ্ব চরাচরে বিলীন হয়ে গেছে, তবুও তাঁর সত্তা মুছে যায়নি স্বামী গোরার হৃদয় থেকে। এদিকে, হুবহু রূপের মতো দেখতে দিতিকে, গোরা স্মৃতিহারা অবস্থায় অসহায় দেখতে না পেরে বাড়িতে নিজের স্ত্রীর পরিচয় নিয়ে আসে, নতুন জীবন দিতে।
যদিও বাড়ির সবাই তাকে রূপ বলে মেনে নেয়, তবুও অদ্বিতীয় আমিষ খাওয়া বা বৈষ্ণব বাড়িতে যেমন নিয়ম মানা উচিত, তার বাইরে সবকিছু করতে থাকে। এমন অবস্থায়, অদ্বিতীয়ার বাড়ির লোক তার খোঁজে আসলেও গোরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকে আর দিতিকে কিছুতেই যেতে দেয় না। এরপর দিতির বাড়ির লোক আদালতে মামলা করে, তাদের মেয়েকে ফিরে পেতে। কিন্তু গোরা এতদিকে, একটু একটু করে দিদিকে রূপের মতো গড়ে নিয়েছে!
ধারাবাহিকের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রোমোতে, তেমন ইঙ্গিতই মিলেছে। সেখানে দেখা গেল, গোরাকে করা যেন আ’হত করে, গঙ্গার ভাসিয়ে দেয়! এই ঘটনা দিদি জানতে পেরে, জীবনে প্রথমবার ঈশ্বরের শরণাপন্ন হয়! ভগবানের সামনে দাঁড়িয়েছে প্রার্থনা করে, তার পরম ভক্তের জীবন বাঁচাতে। দিদি বলে, সেই ঈশ্বরের বিশ্বাস করে না কিন্তু গোরা তো নিজের জীবনও দিতে পারে ঈশ্বরের ইঙ্গিতে! পরবর্তী দৃশ্যেই দেখা যায়, জলের তলা থেকে ভগবান গোরাকে তুলে এনে প্রাণ বাঁচান!
আরও পড়ুনঃ সবকিছুর ঊর্ধ্বে শান্তির খোঁজ! দীর্ঘ নীরবতার পর হাসিমুখে ফিরে এলেন দিতিপ্রিয়া! নিজেকে খুঁজে নেওয়ার সফর শেষ? ‘চিরদিনই’ বিতর্কের অধ্যায় পেরিয়ে নতুন শুরুর ইঙ্গিত অভিনেত্রীর?
এবার বোঝাই যাচ্ছে যে দিতির স্মৃতি মনে পড়ে গেলেও, তাঁর মনে গোরার জন্য একটা অনুভুতি তৈরি হয়েছে। নাস্তিক হয়েও নাহলে কেউ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা কেন করবে? এবার দেখার বিষয়, রূপের জায়গা কি নিতে পারবে অদ্বিতীয়া? গোরাকে ভালোবেসে, সে কি কলকাতায় নিজের বিলাসবহুল আধুনিক জীবন ছেড়ে, নবদ্বীপে ব্রজধামে সংসার পাততে পারবে? সব থেকে বড় প্রশ্ন, গোরা কি নিজের স্ত্রী হিসেবে তাকে স্বীকার করবে? জানতে হলে অবশ্যই চোখ রাখতে হবে, ধারাবাহিকের পরবর্তী পর্বে।
