বর্তমান দিনে সমাজ মাধ্যমে তারকাদের প্রতিটি পদক্ষেপ যে কত দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে, তা আবারও প্রমাণ হল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar) ধারাবাহিককে ঘিরে। সম্প্রতি সহ অভিনেতাদের সঙ্গে মনোমালিন্যের ঘটনা সামনে আসতেই দর্শকদের একাংশের কণ্ঠে ফিরে এসেছে পুরনো অভিযোগ, সব বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নাকি বারবার উঠে আসছেন ‘জিতু কমল’ (Jeetu Kamal)! নতুন করে সহঅভিনেতা ‘অভ্রজিত চক্রবর্তী’র (Avrajit Chakraborty) সঙ্গে কথার আদানপ্রদান ঘিরে সেই ধারণাই আরও জোরাল হয়েছে অনেকের কাছে।
আসলে বিষয়টির সূত্রপাত একটি ছবি ঘিরে। তন্বী লাহা রায়, ওরফে মীরার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট হওয়ার পর অভ্রজিত প্রকাশ্যে জানান, অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি যেন কেউ ব্যবহার না করেন। বন্ধুত্বের খাতিরে এতদিন তিনি এই নিয়ম মেনেই চলেছেন বলেও উল্লেখ করেন। পাশাপাশি একজন মহিলা সহশিল্পীর প্রসঙ্গ তুলে বিষয়টিকে হালকাভাবে না দেখার কথাও বলেন। এই বক্তব্যই মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে জল্পনার জন্ম দেয়।
এরপরেই নানান আলোচনা শুরু হয় জিতু কমলকে নিয়ে। এরপর তিনি নিজেই কমেন্টে বলেন, অনুমতি ছাড়া ছবি পোস্ট করা ঠিক নয় আর এতে তিনি সহমত। তবে একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, সমাজ মাধ্যমে এমন ঘটনা নতুন নয়। কথার শেষে রসিকতার সুরে অভ্রজিতকে ‘বেশি গুরুত্ব’ দিয়ে ফেলার মন্তব্য অনেকের কাছেই ভালোভাবে ধরা পড়েনি। দর্শকদের একাংশের মতে, এই ধরনের মন্তব্যই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
যদিও অভ্রজিত দ্রুতই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, সবটাই ছিল মজার ছলে বলা। অনস্ক্রিন-অফস্ক্রিন সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রেখেই তিনি জিতুর প্রতি ভালোবাসার কথাও জানান। তবু দর্শকদের মন ততক্ষণে অন্যদিকে ঘুরে গিয়েছে। অতীতের দিতিপ্রিয়া রায়ের (Ditipriya Roy) সঙ্গে মতবিরোধের প্রসঙ্গ টেনে অনেকেই বলছেন, বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াটা কাকতালীয় নয়!
আরও পড়ুনঃ “রাতের আকাশ অনেক কিছু শেখায়…নিজেকে খুব ধনী মনে হয়!” শ্যামৌপ্তির সঙ্গে মালা বদলের আগেই রণজয়ের আত্মউপলব্ধি! নতুন অধ্যায় শুরুর আগে, কেন হঠাৎ জীবনের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ?
এই কারণেই এখন সমাজ মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে আরও কড়া মন্তব্য। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই বলছেন, দিতিপ্রিয়ার ধারাবাহিক ছেড়ে যাওয়ার পেছনেও নাকি জিতুর ভূমিকা ছিল, আর সেই কারণেই প্রযোজনা সংস্থার অন্দরেও তাঁকে নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে! এক নেটিজেনের কথায়, “উ’স্কানিদা’তা জিতু। ওর জন্যই দিতিপ্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, এখন সবটা পরিষ্কার। এই কারণেই প্রযোজনা সংস্থার লোকেরা পছন্দ করে না।” সত্যি-মিথ্যা যাই হোক, নতুন করে এই বিতর্ক আবারও অনেক প্রশ্ন তুলে দিল।
