সোশ্যাল মিডিয়ায় গত কয়েকদিন ধরেই চর্চার কেন্দ্রে ছিলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনার কারণে তাঁকে নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর এখন অনেকটাই সুস্থ তিনি। শারীরিকভাবে এখনও সামান্য শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তবে মানসিকভাবে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন দেবলীনা। এই সময়েই তাঁর জীবনে এল এক বড় সুখবর। প্রথমবার বড়পর্দায় মহুয়ার জীবনী নিয়ে তৈরি ছবিতে কণ্ঠ দিতে চলেছেন তিনি, যা তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের মতোই।
দেবলীনা জানালেন, প্রযোজক রাণা সরকারের সঙ্গে তাঁর অনেকদিন আগেই কথাবার্তা হয়েছিল। তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল একসঙ্গে কাজের সম্ভাবনার। তবে এই বিশেষ প্রোজেক্টে সুযোগ পাবেন, তা তিনি কল্পনাও করেননি। তাই আনন্দের পাশাপাশি খানিকটা টেনশনও কাজ করছে। আগে একাধিক ছবিতে গান ডাবিং করলেও এমন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই নতুন। তাঁর কথায়, এই সুযোগ তাঁর জীবনের বড় প্রাপ্তি এবং নিজের কাজকে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার এক দারুণ সুযোগ।
হাসপাতাল থেকে ফেরার পর কাউন্সেলিং চলছে বলেও জানিয়েছেন দেবলীনা। এখনও নিজেকে পুরোপুরি সামলাতে পারছেন না তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক মন্তব্যের চাপ তাঁকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছিল। তাই আপাতত ফোন থেকে কিছুটা দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর মতে, যত বেশি উত্তর দেওয়া হয়, তত বেশি আলোচনা বাড়ে। এখন তিনি গান নিয়েই থাকতে চান এবং অন্যের কথায় নিজের জীবন থামিয়ে রাখতে চান না।
এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে অনেক মানুষের আসল চেহারা চিনতে পেরেছেন বলেও স্বীকার করেছেন দেবলীনা। দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মধ্যে থেকেও তিনি মুখ খুলতে পারেননি। সমাজে মেয়েদের সহ্য করতে শেখানো হয় বলেই অনেক কিছু চেপে রেখেছিলেন। কিন্তু একসময় আর সহ্য করতে না পেরে নিজের কথা প্রকাশ্যে আনেন। সেই সিদ্ধান্তের পর অনেক সম্পর্কের রূপ বদলে গেছে এবং কিছু মানুষকে বন্ধু বলতেও এখন তাঁর ভয় লাগে।
আরও পড়ুনঃ প্রথমবার প্রকাশ্যে রাজকুমার ও পত্রলেখার একরত্তির ঝলক! ভাগ করলেন নামও? কী নাম রাখলেন রাজকন্যার? কার মতো দেখতে হলো সে?
সবকিছুর মধ্যেও ২০২৬ সালকে তিনি নিজের জীবনের পাওয়ার বছর হিসেবেই দেখছেন। হারানোর পাশাপাশি এই বছরই নতুন সুযোগ, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন শক্তি খুঁজে পেয়েছেন তিনি। মহুয়ার বায়োপিকে কাজ করার সুযোগ তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করছে। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে চান দেবলীনা এবং নিজের সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমেই আবার দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চান, এই বিশ্বাসই এখন তাঁর এগিয়ে চলার শক্তি।
