শুরু হয়ে গেল বহু প্রতীক্ষিত ৪৯ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। চলতি বছরে এই ঐতিহ্যবাহী বইমেলার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সল্টলেকের করুণাময়ী বইমেলা প্রাঙ্গনে জমে উঠেছে বইপ্রেমীদের ভিড়। এবছর বইমেলার থিম কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে আর্জেন্টিনা যা মেলাকে দিয়েছে এক নতুন আন্তর্জাতিক মাত্রা। বইয়ের সুবাসে ভরে উঠেছে গোটা প্রাঙ্গন আর সেই আবহেই সমাজমাধ্যমে নজর কেড়েছে জনপ্রিয় বাচিকশিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি আবেগঘন পোস্ট।
আবৃত্তি মানেই যাঁর নাম প্রথমে মনে পড়ে তিনি ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি আগেও জানিয়েছেন বই তাঁর কাছে সন্তানের মতো প্রিয়। বই পড়া শুধু শখ নয় বরং তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বছরের পর বছর বই সংগ্রহ করতে করতে নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন এক ছোটখাটো পাঠাগার। সেখানে রয়েছে হাজারেরও বেশি বই। সাহিত্য থেকে দর্শন ইতিহাস থেকে সংগীত সব ধরনের বইতেই ভরে রয়েছে তাঁর তাক। ব্রততীর জীবনে বই যে কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে তা আবারও সামনে এনে দিয়েছে তাঁর এই লেখা।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ব্রততী লেখেন কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধনের মুহূর্ত থেকেই তিনি যেন গোটা শহর জুড়ে বইয়ের গন্ধ অনুভব করছেন। নতুন বইয়ের পাতা ওল্টানোর ঘ্রাণ আর পুরনো বইয়ের হলুদ হয়ে যাওয়া পাতার সোঁদা গন্ধ তাঁর চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে বলে জানান তিনি। সরস্বতী পুজোর আগে প্রতিবছর নিজের হাতে বইয়ের তাক পরিষ্কার করার কথাও উল্লেখ করেন শিল্পী। ধুলো ঝাড়তে ঝাড়তে খুলে যায় অসংখ্য স্মৃতির দরজা।
বইয়ের পাতায় পাতায় লুকিয়ে রয়েছে স্মৃতির ছোঁয়া। কোনও বইয়ে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সই আবার কোনও বইয়ে শঙ্খ ঘোষ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শক্তি চট্টোপাধ্যায় কিংবা বুদ্ধদেব গুহের স্বাক্ষর। নিজের সংগ্রহে কবিতার বই প্রবন্ধ জীবনী ধর্মগ্রন্থ চলচ্চিত্র খেলাধুলা সংগীত সব বিষয়ক বই আলাদা করে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি। একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর লেখা এবং তাঁকে নিয়ে লেখা অগণিত বই। পোস্টের শেষে নিজের এই ব্যক্তিগত বইমেলার কিছু ঝলকও ভাগ করে নিয়েছেন ব্রততী।
আরও পড়ুনঃ সৌমিতৃষা কুণ্ডুর জায়গা দখল করছেন অঙ্কিতা মল্লিক? এমন সুবর্ণ সুযোগ থেকে কেন বাদ পড়লেন “মিঠাই”? অভিনেত্রীর জীবনে নতুন মোড়!
এবারের কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলায় অংশ নিয়েছে ব্রিটেন আমেরিকা জার্মানি অস্ট্রেলিয়া ফ্রান্স কলম্বিয়া স্পেন পেরু জাপান থাইল্যান্ড সহ লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ। পাশাপাশি রয়েছে ভারতের নানা প্রান্তের বহু প্রকাশনা সংস্থা। যদিও এবারও বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন। তবুও বইপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে কোনও খামতি নেই। বই আর মানুষের ভালোবাসায় আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা।
