যে কোনও উৎসবেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের জীবনের নানা রঙিন মুহূর্ত তুলে ধরতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। সরস্বতী পুজোও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বিশেষ দিনে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কাটানো কিছু আন্তরিক মুহূর্ত ভাগ করে নিলেন তিনি। বসন্ত পঞ্চমীর আবহে সাদা হলুদ সাজে, হাসি মুখে দেখা গেল অপরাজিতাকে। শুধু ছবি নয়, গলা ছেড়ে গানও ধরলেন তিনি। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গানে মিশে গেল স্মৃতি আর আবেগ, যা মুহূর্তেই মন ছুঁয়ে যায় অনুরাগীদের।
আজকের দিনে অনেকেই সরস্বতী পুজোকে বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে বলে আখ্যা দিলেও, অপরাজিতার লেখায় উঠে এল এক অন্য সময়ের গল্প। তাঁর কথায়, ছোটবেলায় ভালোবাসা উদযাপনের জন্য আলাদা কোনও দিন ছিল না। সরস্বতী পুজোই ছিল সেই আবেগের উৎসব। অপশন ছিল কম, প্রাপ্তিও সীমিত, তবু সেখানেই লুকিয়ে ছিল গভীর আনন্দ। অল্পতেই খুশি হতে শেখা সেই সময়টার কথা মনে করে অভিনেত্রীর লেখায় স্পষ্ট নস্টালজিয়ার ছোঁয়া।
সেই দিনগুলোয় হাতে স্মার্টফোন ছিল না, ছিল না দূরে বেড়াতে যাওয়ার বিলাসিতা। চিঠিই ছিল অনুভূতি জানানোর একমাত্র মাধ্যম। নিজের মতো করে সময় কাটানো, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, স্কুল জীবনের ছোট ছোট আনন্দেই ভরে থাকত মন। অপরাজিতা লিখেছেন, বসন্ত পঞ্চমীর আলো আজও তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় সেই নিষ্পাপ, স্বপ্নময় দিনগুলোর কাছে। মনে পড়ে যায় স্কুলের উঠোন, হাসি আর অজানা ভবিষ্যতের রঙিন কল্পনা।
এই আবহেই শোনা গেল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের অমর গান ‘এ গানে প্রজাপতির পাখায় পাখায় রঙ ছড়ায়’। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একসঙ্গে গান গাইতে দেখা যায় অভিনেত্রীকে। সেই মুহূর্ত যেন শুধুই গান নয়, এক প্রজন্মের অনুভূতির প্রকাশ। অপরাজিতার মতে, ভালোবাসার মুহূর্তগুলোয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠ আজও সমানভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যায়, সময়ের সীমা পেরিয়ে।
আরও পড়ুনঃ অপূর্ণতার মাঝেই পূর্ণতা খুঁজে পেলেন পরম-পিয়া! স্বামী সন্তান থেকেও কেন অপূর্ণ পিয়ার জীবন?
সরস্বতী বন্দনার এই দিনে অপরাজিতার পোস্ট যেন শুধুই স্মৃতিচারণ নয়, বরং এক আন্তরিক শ্রদ্ধার প্রকাশ। যে কণ্ঠে একসময় সুরের দেবী নিজেই যেন বিরাজ করতেন, সেই শিল্পীকে স্মরণ করাই তাঁর কাছে অন্তরের প্রণাম। অভিনেত্রীর এই আবেগঘন পোস্টে অনুরাগীরাও নিজেদের ফেলে আসা দিনগুলো খুঁজে পেয়েছেন। সরস্বতী পুজোর দিনে তাই অপরাজিতার স্মৃতির জানালায় উঁকি দিল এক টুকরো হারিয়ে যাওয়া সময়।
