বাংলা টেলিভিশন ও ডিজিটাল দুনিয়ায় আজ যাঁদের মুখ দিন দিন পরিচিত হচ্ছে, তাঁদের অনেকের পথচলাই অজানা গল্পে ভরা থাকে। পর্দার ঝলকানি যতটা উজ্জ্বল, বাস্তবের লড়াই তার চেয়েও বেশি কঠিন। সেই লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই নিজেকে গড়ে তুলেছেন অভিনেতা ও গায়ক রাজদীপ গোস্বামী। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের এমন কিছু অভিজ্ঞতার কথা তিনি ভাগ করে নিয়েছেন, যা শুধু একজন অভিনেতার গল্প নয়, বরং স্বপ্ন দেখা হাজারো তরুণের বাস্তব।
২০২১ সালের ডিসেম্বর সময়টাই রাজদীপের জীবনে ছিল একেবারে নতুন অধ্যায়ের শুরু। নিউটাউন থেকে প্রায় দু’ঘণ্টার বাসযাত্রা করে টালিগঞ্জ পৌঁছনো, প্রথমবার মেট্রোতে ওঠা, উত্তমকুমারের স্ট্যাচু দেখা, টেকনিশন ও ইন্দ্রপুর স্টুডিও—সবকিছুই তখন স্বপ্নের মতো লাগত অভিনেতার কাছে। যেসব জায়গা আগে শুধুই গুগলে খোঁজা হতো, সেগুলিই একদিন তাঁর দৈনন্দিন যাত্রার অংশ হয়ে উঠছিল। চার বছরে সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে অনেকটাই বদলে দিয়েছে বলে নিজেই স্বীকার করেন তিনি—স্ট্রাগল, অপেক্ষা আর চেষ্টা তাঁকে ভিতর থেকে বড় করেছে বলে জানিয়েছেন অভিনেতা।
তবে এই যাত্রাপথ মোটেও মসৃণ ছিল না। রাজদীপ অকপটে বলেছেন, রিজেকশনের থেকেও বেশি কষ্ট দিত অপমান। নতুন কাজের সময় অনেকেই মজা করত, ইয়ার্কি করত, শুধু তাই নয় ‘লেগ পুল’ করার চেষ্টা করত। তাঁর কথায়, “মানুষজন খুব অপমান করে, মানুষজন মজা নেওয়ার জন্য বসে থাকে।” এমন অভিজ্ঞতা শুধু একবার নয়, বারবার তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙেছে। তবুও তিনি কাউকে কিছু বলেননি, কারণ নেগেটিভিটি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি পছন্দ করেন না।
একটি ঘটনার কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে তাঁর। দুর্গাপুজোর সময় একটি কাজে যোগ দিতে গিয়ে ট্রাফিকের কারণে ১০-১৫ মিনিট দেরি হয়ে যায়। সেই সামান্য দেরিতেই এমন ভাষায় তাঁকে অপমান করা হয় যে কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হয়। চোখের জল লুকোতে সানগ্লাস পরতে হয়েছিল তাঁকে। “হিরো নাকি?”—এই ধরনের মন্তব্য আজও তাঁর মনে দাগ কেটে আছে। তবুও সেদিনও তিনি চুপ ছিলেন, নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।
আরও পড়ুনঃ “স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে অস্বস্তি হচ্ছে…এইভাবে ড্রেসটা টেনে ধরে থাকতে হচ্ছে, পরার কী দরকার ছিল?” “হলিউডকে নকল করতেই ব্যস্ত, কোনও নিজস্বতা নেই!” অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের পোশাক নিয়ে নেটপাড়ার তো’পের মুখে ‘ফুলকি’, দিব্যাণী! কী উত্তর দিলেন অভিনেত্রী?
এই লড়াইয়ের মাঝেই ধীরে ধীরে কাজের সুযোগ আসে, ২০২২ সালে জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিক ‘নিম ফুলের মধু’-তে তাঁর অভিনয় নজর কাড়ে। পাশাপাশি নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘আরজি মিউজিক’-এ গান প্রকাশ করে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন, যার মধ্যে ‘চেরে জাস না’ উল্লেখযোগ্য। আজ ২০২৫ সালে, কৌশিনী পালের বিপরীতে জি বাংলার ধারাবাহিক ‘বেশ করেছি প্রেম করেছি’-তে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। তবুও অভিনেতার বাবা এখনও চান সরকারি চাকরির চেষ্টা চালিয়ে যেতে। কিন্তু রাজদীপের বিশ্বাস একটাই—যে স্বপ্নের জন্য এতটা পথ হাঁটা, তাকে ছেড়ে যাওয়া যায় না। তাঁর গল্প তাই শুধু সাফল্যের নয়, লড়াই করে টিকে থাকারও।
