স্টুডিয়োপাড়ায় এই মুহূর্তে এক বিশেষ ধারাবাহিককে নিয়ে অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতির আবহ সৃষ্টি হয়েছে। সাফল্যের মাইলফলকের সঙ্গে জুড়েছে শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও! কোন ধারাবাহিকের কথা হচ্ছে বলুন তো? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। ভালো-খারাপের মাঝেই দাঁড়িয়ে রীতিমত দ্বন্দ্বে পড়েছে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘আনন্দী’ (Anandi)। সদ্যই ৭০০ পর্ব সম্পূর্ণ করে যখন কলাকুশলীরা বেশ খুশিতে, তখনই শোনা যাচ্ছে গল্পের পথচলা নাকি শিগগিরই থামতে পারে! অন্দরমহলের কথাবার্তায় স্পষ্ট, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, এই ধারাবাহিক শুধু একটি গল্প ছিল না, বরং একটি নতুন সূচনার সাক্ষীও! এই গল্প দিয়েই যীশু সেনগুপ্তের প্রাক্তন, প্রযোজক নীলাঞ্জনা শর্মা তাঁর নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘নিন চিনিজ মাম্মাজ প্রোডাকশন’ শুরু করেছিলেন। ফলে ‘আনন্দী’র সম্ভাব্য সমাপ্তি তাঁর জন্যও আবেগের জায়গা তৈরি করছে বলেই খবর। ইউনিটের সদস্যদের মধ্যেও নাকি এই প্রসঙ্গ ঘিরে বেশ কিছু কথাবার্তা হয়েছে। যার থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিদায়ের সম্ভাবনা তাঁদেরও ছুঁয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই ধারাবাহিকটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল অন্বেষা হাজরা এবং ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়ের জুটির আবার ফিরে আসা। এই গল্পের মাধ্যমে অন্যতম সফল জুটির ছোটপর্দায় ফেরা দর্শকদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করেছিল। যদিও তাঁরা এই মুহূর্তে শেষের জল্পনা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি, তবু তিনি স্বীকার করেছেন যে এই কাজ অনেক ভালো স্মৃতি দিয়েছে। কথার ভঙ্গিতেই বুঝিয়েছে, প্রোজেক্টটির সঙ্গে তাঁর আবেগের যোগ গভীর।
অন্যদিকে, চ্যানেলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও জল্পনা চলছে। ইতিমধ্যেই নতুন ধারাবাহিকের ঝলক সামনে এসেছে, যা থেকে অনেকেই অনুমান করছেন যে সময়ের সঙ্গে স্লট বদলের প্রস্তুতিও হয়তো চলছে। টেলিভিশন জগতে যদিও এই ধরনের পরিবর্তন নতুন নয়, তবু কোনও জনপ্রিয় গল্প থামার সম্ভাবনা দর্শকদের মন খারাপ করিয়ে দেয়ই, সেটাও অস্বীকার করার জায়গা নেই। যদিও এই মুহূর্তে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
আরও পড়ুনঃ গভীর রাতে সরকারি কলেজে অযাচিত প্রবেশ! অরিজিৎ সিংয়ের বাড়িতে গিয়েই বিতর্কে জড়ালেন আমির খান!
তাও, সব মিলিয়ে দেখতে গেলে ‘আনন্দী’ এখন নিঃসন্দেহে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে সাফল্যের আনন্দ আর অপরদিকে অনিশ্চয়তার ছায়া। শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, এই ধারাবাহিকের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের কাছে এটি শুধুই গল্প নয়, বরং স্মৃতির এক বড় অংশ হয়ে থাকবে। আপনাদের কী মত, আনন্দী কি এখনই শেষ হওয়া ঠিক? নাকি অন্তত হাজার পর্ব অবদি চলা উচিত?
