জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ফুলের ছিল যমজ বোন, নাম তার মালা!” পুঁথির দ্বিতীয় খণ্ডে চাঞ্চল্যকর সত্য! ফুল-মুরারির অসমাপ্ত প্রেমের নেপথ্যে, খুড়তুতো ভাইয়ের ষড়যন্ত্র! পুলস্তই সেই পুনর্জন্ম? রূপমঞ্জুরী ও অদ্বিতীয়া কি তবে যমজ? কুন্তলিনীর রহস্য ঘনীভূত!

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকে এখন এমন এক মোড় এসেছে, যেখানে আধ্যাত্মিক বিশ্বাস আর বাস্তব জীবনের টানাপোড়েন একসঙ্গে জড়িয়ে গেছে। গোরাচাঁদের জীবনে রূপমঞ্জুরীর অনুপস্থিতি কখনও সত্যিই অনুপস্থিতি হয়ে ওঠেনি, স্মৃতির ভিতর সে রয়ে গেছে। সেই শূন্য জায়গাতেই হঠাৎ করে এসে দাঁড়ায় দিতি, যার চেহারায় রূপের ছায়া এতটাই স্পষ্ট যে গোরা তাকে হারিয়ে যেতে দিতে পারে না। কিন্তু দিতি তো অন্য মানুষ! তার অভ্যাস, তার দৃষ্টিভঙ্গি, তার জীবনযাপন সবই আলাদা। তবু অদ্ভুতভাবে সে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে, যেন কোনও অচেনা টান তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অন্য এক সত্তার দিকে।

গোরার চারপাশে বারবার দেখা দিচ্ছে কিছু ত্রিকালদর্শী সাধু। বিপদের আগে, সংকটের মুহূর্তে কিংবা সিদ্ধান্তের ঠিক আগমুহূর্তে তারা যেন তাকে ইঙ্গিত দিয়ে যায়। তাদের উপস্থিতি কাকতালীয় নয়, এই কথা এখন স্পষ্ট। একদিন সেই সাধুদের ইচ্ছাতেই দিতির হাতে এসে পড়ে এক পুরনো পুঁথি, নাম ‘ফুল ও মুমারি কাব্য’। প্রথমে বিষয়টি নিছক কৌতূহল মনে হলেও, ধীরে ধীরে বোঝা যায় এই পুঁথিই হয়তো তাদের বর্তমান জীবনের গোপন সূত্র। সাধুরা নাকি চান, গোরা আর দিতি নিজেদের আগের জন্মের ইতিহাস জানুক। কারণ এই জন্ম নাকি তাদের সপ্তম, আর আগের ছয়বার মিলনের আগেই কোনও না কোনও কারণে বিচ্ছেদ ঘটেছে!

পুঁথির প্রথম অংশে যে কাহিনি উঠে আসে, তা দিতিকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। ব্রহ্মাণী গ্রামের এক দেবদাসী আশ্রমে ফুল নামে এক তরুণী ছিল, যে মুরারির বাঁশির সুরে মুগ্ধ হয়ে পড়ে। কিন্তু দেবদাসীর জীবনে ব্যক্তিগত প্রেমের জায়গা নেই, ঈশ্বর ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসা সেখানে নিষিদ্ধ! এই অসম প্রেমের গল্প যেন দিতির নিজের জীবনের সঙ্গেও কোথাও মিল খুঁজে পায়। তবে পুরো কাহিনি পড়ার আগেই ঘটে বিপত্তি, গোরার দাদা গোপনে সেই পুঁথি চুরি করে এক দালালের কাছে বিক্রি করে দেয়। দিতি বিষয়টি চেপে না রেখে প্রকাশ্যে আনে, আর পরে গোরার সহায়তায় পুঁথিটি উদ্ধারও করে।

এই ঘটনার পর থেকেই তাদের সম্পর্কের ভিত আরও শক্ত হয়, যেন তারা একসঙ্গে কোনও অদৃশ্য সত্যের অনুসন্ধানে নেমেছে। দ্বিতীয় অংশে গল্প আরও জটিল হয়ে ওঠে। জানা যায়, ফুলের এক যমজ বোন ছিল যার নাম ‘মালা’। অন্যদিকে মুরারিরও এক খুড়তুতো ভাই ছিল, যে ফুলকে ভালোবাসত। প্রত্যাখ্যাত হয়ে সেই ভাইয়ের ষড়যন্ত্রেই নাকি ফুল ও মুরারির মিলন ভেস্তে যায়। এই অংশ পড়তে পড়তেই দিতির মনে হঠাৎ এক প্রশ্ন আসে, যদি সে আর গোরা সেই ফুল ও মুরারি হয়, তবে এ জন্মের পুলস্তই কি সেই ষড়যন্ত্রকারী ভাইয়ের পুনর্জন্ম? পুলস্ত যে দিতির জীবনে প্রেমের অভিনয় করছে, তার অন্তরে লুকানো লোভ ও পরিকল্পনা এখন আর অজানা নয়।

সম্পত্তির লোভে বিয়ে করে তাকে সরিয়ে দেওয়ার ছক, সবই প্রকাশ পেয়েছে। আর তাই গোরা দিতিকে রূপের পরিচয়ে আড়াল করে রেখেছিল। এইসব ঘটনার ভেতরেই আরও এক প্রশ্ন মাথা তোলে, রূপমঞ্জুরী আর অদ্বিতীয়া কি তবে কেবল এক জীবনের দুই রূপ, নাকি সত্যিই তারা যমজ সত্তা? যদি ফুলের ছিল মালা, তবে বর্তমানেও কি সেই প্রতিফলন আছে? দিতি যখন নিজেকে রূপ বলে ভাবতে শুরু করেছে, তখন বিষয়টি শুধু মানসিক পরিবর্তন নয়, যেন জন্মজন্মান্তরের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া। সাধুরা যদি সত্যিই এতদিন ধরে তাদের মিলনের চেষ্টা করে থাকেন, তবে এ জন্মে কি অবশেষে সেই অসমাপ্ত কাহিনির পরিণতি লেখা হবে? নাকি আবারও কোনও অদৃশ্য শক্তি তাদের আলাদা করে দেবে? সেই উত্তরই এখন দেখার।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page