রুপোলি পর্দার চিরচেনা নায়ক, কখনও ডিস্কো ড্যান্সার আবার কখনও ফাটাকেষ্ট রূপে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া মিঠুন চক্রবর্তীকে খুব কমই দেখা যায় চলচ্চিত্র জগতের জমকালো পার্টি কিংবা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে। এই অনুপস্থিতি নিয়ে বহুদিন ধরেই কৌতূহল ভক্তদের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজেই খোলাখুলি জানালেন, আলো ঝলমলে ভিড়ের থেকে নিজের নিরিবিলি জগতকেই তিনি বেশি ভালোবাসেন। তাঁর কাছে খ্যাতির চেয়ে ব্যক্তিগত শান্তিই অনেক মূল্যবান।
মিঠুন জানান, ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিক থেকেই তিনি পার্টি সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। তাঁর মতে এইসব আসরে প্রায়ই পরনিন্দা আর অকারণ আলোচনা চলে, যা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে মেলে না। অনেক আগেই মদ্যপানও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি, ফলে আধুনিক পার্টির পরিবেশে নিজেকে অচেনা লাগে। তার বদলে নিজের বাগান, পোষ্য আর রান্নাঘরের উষ্ণ পরিবেশেই তিনি খুঁজে পান প্রকৃত আনন্দ।
তবে তাঁর কর্মজীবনের ব্যস্ততা শুনলে আজকের প্রজন্ম অবাক হতেই পারে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে একসঙ্গে অসংখ্য ছবিতে কাজ করেছেন তিনি। এক বছরে উনিশটি ছবি মুক্তির বিরল কৃতিত্ব তাঁর ঝুলিতে রয়েছে, যা বিশ্ব রেকর্ড বইতেও নথিভুক্ত হয়েছে। প্রায় তিনশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকলে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।
আজকের দিনে যেখানে অনেক অভিনেতা বছরে একটি কিংবা দুটি ছবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, সেখানে মিঠুনের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই আলাদা। তিনি বিশ্বাস করেন গল্পের মূল ভাবনা বুঝতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয় না। তাঁদের সময় এক লাইনের গল্প শুনেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হত কাজ করা হবে কি না। এই দ্রুত সিদ্ধান্তই তাঁকে এত বিপুল সংখ্যক ছবিতে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ বিতর্কে শুরু, ইতিহাসে সমাপ্তি! নিষিদ্ধ ছবির অন্ধকার ভেদ করে তিন দশকে তিনবার জাতীয় সম্মান! জরুরি অবস্থার নিষেধাজ্ঞা থেকে স্বীকৃতির শিখরে, এমন বিরল কৃতিত্বের অধিকারী এই অভিনেত্রীকে চেনেন?
এখনও তিনি সমান উদ্যমে কাজ করে চলেছেন, তবে বেছে বেছে। যে কাজ তাঁকে অনুপ্রাণিত করে কেবল সেটিই গ্রহণ করেন। বিভিন্ন ভাষা ও ধারার ছবিতে অভিনয় করে তিনি নতুন প্রজন্মের সঙ্গেও তাল মিলিয়ে চলছেন। গ্ল্যামারের মোহে নয়, নিজের শর্তে বেঁচে থাকা এই অভিনেতা আজও দেখিয়ে দিচ্ছেন সত্যিকারের তারকার উজ্জ্বলতা আসে ভেতরের সততা আর নিরলস পরিশ্রম থেকে।
