জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক পরিণীতা তে রায়ান আর পারুলের রসায়ন এখন দর্শকদের ড্রয়িংরুমে চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। পর্দায় উদয় প্রতাপ সিং এবং ঈশানী চট্টোপাধ্যায় এর জুটি মন কাড়লেও, সেই আবেগ যখন বাস্তব জীবনে এসে মিশে যায়, তখনই তৈরি হয় বিতর্ক। সম্প্রতি উদয়ের স্ত্রী অনামিকা চক্রবর্তী কে ঘিরে এমনই এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় সমাজমাধ্যমে। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে চুপ করে থাকেননি অনামিকা, বরং বুদ্ধিদীপ্ত জবাবে নজর কেড়েছেন সকলের।
ঘটনার সূত্রপাত একটি সাধারণ ছবি থেকে। সমাজমাধ্যমে উদয় ও অনামিকার একটি হাসিখুশি মুহূর্ত শেয়ার করা হয়েছিল। সেই পোস্টের মন্তব্য ঘরে এক মহিলা সরাসরি অনামিকাকে আক্রমণ করে লেখেন, রায়ানের পাশে তাঁকে নাকি বুড়ি লাগছে, পারুলকেই বেশি মানায়। পর্দার চরিত্রের সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক গুলিয়ে ফেলে এমন এজ শেমিংয়ের মন্তব্যে বিস্মিত হন অনেকেই। অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনকে অবমাননা করে এমন মন্তব্য যে অযৌক্তিক, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে মুহূর্তেই।
তবে রাগে বা ক্ষোভে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে অনামিকা যেভাবে উত্তর দিয়েছেন, তাতেই মুগ্ধ নেটিজেনরা। তিনি লেখেন, না না দিদি, আমার মতে আপনাকেই সেরা লাগবে রায়ানের পাশে, চাইলে পরের কাস্টিংয়ের জন্য বলেও দিতে পারি। আপনার মতো সুন্দরী আর ইয়ং কাউকে পাওয়া যাবে না। এই তির্যক অথচ মার্জিত জবাব মুহূর্তে ভাইরাল হয়। অনেকেই বলেন, পর্দা আর বাস্তবের পার্থক্য না বোঝা মানুষদের এমন জবাবই প্রাপ্য।
উল্লেখ্য, ধারাবাহিকে রায়ান এবং পারুলের জুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে উদয় ও অনামিকা দীর্ঘদিনের প্রেমের পর ২০২৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। অভিনয়ের প্রয়োজনে দর্শক গল্পে নানা মোড় চাইতেই পারেন, কিন্তু তার জন্য অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনে কটাক্ষ করা সুস্থ মানসিকতার পরিচয় নয়। সচেতন নেটিজেনরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শিল্পীর কাজ আর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আলাদা করে দেখা জরুরি।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার জীবনের বড় সিক্রেট…’ ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অকপট মানসী সেনগুপ্ত! গাড়িতে বসেই কী এমন গোপন তথ্য ফাঁস করলেন অভিনেত্রী?
উদয় ও অনামিকার মিষ্টি খুনসুটি মাঝেমধ্যেই সমাজমাধ্যমে উঠে আসে। কিছুদিন আগে তাঁদের বিচ্ছেদ নিয়ে গুজব ছড়ালেও অনামিকা নিজেই তা নস্যাৎ করেন। জানান, তাঁরা একসঙ্গেই আছেন এবং অযথা রটনায় কান দিতে চান না। উদয়ের কেরিয়ারের প্রথম লিড পরিণীতা ইতিমধ্যেই সাফল্যের এক বছর পার করেছে। অন্যদিকে অনামিকা জানিয়েছেন, আপাতত তাঁর হাতে নতুন কাজ নেই, শেষবার তাঁকে দেখা গিয়েছিল মিঠিঝোরা ধারাবাহিকে। তবু আত্মবিশ্বাস আর রসবোধেই যেন জয় করলেন তিনি নেটদুনিয়া।
