বাংলা টেলিভিশন এবং ওটিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ অভিনেত্রী ‘আভেরী সিংহ রায়’ (Avery Singh Roy), ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি বিশেষ আকৃষ্ট ছিলেন। কিশোরী বয়সেই নেহেরু চিলড্রেনস মিউজিয়ামে রামপ্রসাদ বণিকের কাছে প্রথম প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন তিনি। মঞ্চে অভিনয় করতে করতে তিনি শুধু চরিত্রের গভীরতা বোঝা শিখেছেন তাই না, একই সঙ্গে ভরতনাট্য শেখার তাগিদে তনুশ্রী শঙ্করের কাছে নাচের প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। যে নাকি তাঁর উপস্থাপনায় নান্দনিকতার ছোঁয়া যোগ করেছে, বলে মত তাঁর।
প্রসঙ্গত, অভিনয় জীবনের প্রথম ধাপ থেকেই আভেরীর পছন্দ ছিল চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি এমন একটি মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যেখানে তার ‘ছেলে’ ছিলেন তার চেয়ে বয়সে বড়। শাশুড়ি, বৌদি, কাকিমার মতো নানান পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা এবং উল্লেখযোগ্য কিছু চরিত্র ঝুলিতে রয়েছে তাঁর। এমনকি মঞ্চে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা চরিত্রেও তিনি সাফল্যের সঙ্গে ফুটেছেন। অভিনয়ে তাঁর বৈচিত্র যেন প্রমাণ করে, অভিনয়ে বয়স বা রূপের সীমাবদ্ধতা নেই।
অভিনেত্রী বরাবরই নিজের অভিনয় দক্ষতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ‘পারফেক্ট ফিগার’ বা ‘গ্ল্যামারাস’ নায়িকার ধারণাকে তিনি কখনও মানেননি। আভেরী মনে করেন, একজন অভিনেতার সত্যিকারের সার্থকতা নির্ভর করে কতটা নিখুঁতভাবে সে চরিত্রে মিশতে পারে আর সেটার মধ্যে দিয়ে কতজনের মনকে ছুঁতে পারে। এই মানসিকতা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করেছে, কিন্তু ভালো চরিত্রের জন্য তার সংগ্রামও কম হয়নি!
আজও আভেরী নিজেকে একজন ‘লোভী’ অভিনেত্রী হিসেবে আখ্যা দেন! কিন্তু কেন? অভিনেত্রীর ব্যাখ্যা, তিনি সবসময় এমন চরিত্রের খোঁজে থাকেন যা তাঁকে নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। তাঁর সম্প্রতি কাজ ‘খানিকটা প্রেমের মত’ সিরিজে ‘শ্রেয়া’ চরিত্রটি তাঁর জন্য বিশেষ এক উপলক্ষ। কারণ এটি তাকে প্রথমবার কমবয়সি কেন্দ্রীয় চরিত্রে মেলে ধরার সুযোগ দিয়েছে। এই ধরনের ভূমিকা যেন তাঁর কাছে নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “ভুল করা মানসিক স্বভাব!” জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার গান, পরশু দিন জামিন পেলেও বিতর্ক থামল না! ফের শারী’রিক নি’র্যাতনের অভিযোগ উঠল নোবেলের নামে!
উল্লেখ্য, শুরু দর্শকদের কাছে নয়, বরং পর্দায় নতুন রূপে হাজির হওয়াটা যেন আভেরীর কাছেও এখনও একটি অদ্ভুত উত্তেজনার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে ‘মা-কাকিমা’ বা অন্যান্য চরিত্রের ইমেজ ভাঙতে গিয়েই তিনি রোমান্টিক কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। এই নতুন অভিজ্ঞতা কতটা গভীর ছাপ ফেলতে পারে, তা সময়ই বলবে। তবে তাঁর অভিনয় জীবনের দিকে তাকালে এই কথা নিশ্চিত যে, অভিনেত্রী নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে যেকোনও চরিত্রে প্রাণ ঢেলে দিতে সক্ষম।
