দোলের রঙে রাঙানো আবহেই এবার বড়সড় মোড় নিতে চলেছে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar)। নতুন প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে। কারণ সেখানেই স্পষ্ট যে রাজনন্দিনীর অতীত এবার অপর্ণার কাছে বর্তমান হয়ে দাঁড়াবে! প্রোমোর শুরুতেই দেখা যাচ্ছে, দোল পূর্ণিমায় অপর্ণা এক মন্দিরে প্রবেশ করতেই মুহূর্তে অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখানে রাজনন্দিনীর স্মৃতিফলকে পা রেখে কৃষ্ণ মন্দিরে যেই না গিয়ে দাঁড়ায়, ব্যক্তিত্ব বদলে যায় তার সম্পূর্ণ।
সকলেই যখন রঙ খেলা আর পূজায় ব্যস্ত, ঠিক তখনই অপর্ণার আচরণে ধরা পড়ে সেই পরিচিত বদলে যাওয়া সুর। এদিকে মন্দিরে আগে থেকেই উপস্থিত থাকা তারা সুন্দরী মা, তাকে রাজনন্দিনী পরিচয়ে সেজে ওঠার পরামর্শ দেন। এটাও জানান যে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। এরপর হাতে কিছু গয়না পরিয়ে দেন তিনি অপর্ণার। হঠাৎ করেই তারপর অপর্ণা ছুটে বাইরে বেরিয়ে এসে ‘আমি যে তোমার’ গানের সুরে নাচতে শুরু করে দিক শূন্য হয়ে।

তাঁর উন্মত্ত নাচ যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। আর্য তাকে থামাতে এগিয়ে এলে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সে আর অপর্ণা নয়, সে রাজনন্দিনী! তার কথায় উঠে আসে প্রতিশোধ আর মিথ্যার অবসানের ইঙ্গিত। এই দৃশ্য শুধু আর্যকেই নয়, রাজনন্দিনীর মাকেও গভীরভাবে নাড়া দেয়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অতীতের সব স্মৃতি সত্যিই ফিরে এসেছে? নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য? এর মধ্যেই গল্পে জটিলতা বাড়িয়েছে তৃতীয় এক চরিত্রের আগমন। এই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রী ‘নবনীতা মালাকার’কে।
আরও পড়ুনঃ “মানুষ চিনতে শিখেছি” ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুদের আচরণে বিস্মিত পায়েল দে, তুলে ধরলেন কুড়ি বছরের অভিজ্ঞতা! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’এ কি তবে তাঁর জন্য বন্ধ অধ্যায়?
প্রথমদিকে তাকে আর্য-অপর্ণার সহায়ক বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়েছে, তার উপস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে অন্য উদ্দেশ্য। আর্যকে ফাঁসানোর ছক সে বেশ কিছুদিন ধরেই কষছে। অপর্ণা তার এই চাল টের পেয়ে সরাসরি প্রশ্নও তোলে, সে আসলে কে এবং কী চায়? কিন্তু উত্তর পাওয়া এত সহজ নয়, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ঘটনাপ্রবাহ এতটাই উত্তপ্ত হয় যে অপর্ণাকে হাতে ব’ন্দুক তুলতে দেখা যায়। সে সরাসরি তার দিকে তাক করে সত্য জানতে চায়।
তখনই বি’স্ফোরক দাবি সামনে আসে, রাজনন্দিনীর মৃ’ত্যুর জন্য নাকি দায়ী আর্য সিংহ রায়! শুধু তাই নয়, ওই নারী জানায় তার সঙ্গে আর্যর রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। এই দাবিতে অপর্ণা যেমন হতবাক, তেমনই দর্শকরাও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। সত্যিই কি আর্য কোনও গোপন অপরাধ লুকিয়ে রেখেছে, নাকি এ সবই নতুন ষড়যন্ত্র? ধারাবাহিকের গল্পে সম্প্রতি একের পর এক টানাপোড়েন দেখানো হয়েছে। সম্পর্কের ভাঙাগড়া, বিশ্বাস আর সন্দেহের দোলাচল মিলিয়ে গল্প এখন চূড়ান্ত রহস্যে ঘেরা। রাজনন্দিনীর আসল খু’নি কে? অপর্ণার পরিবর্তনের পেছনে কী কারণ? সব উত্তর মিলবে আগামী পর্বগুলোতে।
