টলিউডের অন্যতম পরিচিত মুখ ‘রুক্মিণী মৈত্র’ (Rukmini Maitra) গত বছর এই সময়ে ‘বিনোদিনী’ ছবিটির জন্য বেশ চর্চায় ছিলেন। সম্প্রতি নিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বেশ খোলামেলা কথাবার্তা বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, অভিনয় তাঁর কাছে কেবল ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো নয়, বরং একটি যৌথ সৃজনপ্রক্রিয়ার অংশ হওয়া। তিনি মনে করেন, একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো পরিচালকের ভাবনাকে বুঝে নেওয়া এবং সেটাকে যথাযথভাবে পর্দায় তুলে ধরা। নিজের সাফল্যের কৃতিত্বও তিনি একা নিতে চান না।
বরং বলেন, তিনি কাউকে খুশি করার চেষ্টা করেন না, আশপাশের মানুষই তাঁকে ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেন। এই প্রসঙ্গেই তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়-এর নাম। তাঁর কাছ থেকেই নাকি তিনি শিখেছেন, পরিচালকের উপর সম্পূর্ণ আস্থা রাখা কতটা জরুরি। চরিত্রে ঢোকার আগে নিজের অহং বা সংশয় সরিয়ে রেখে, পরিচালকের নির্দেশনাকে বিশ্বাস করতে পারলেই অভিনয় স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, এমনটাই তাঁর উপলব্ধি। রুক্মিণীর মতে, একজন পরিচালক গোটা ছবির সামগ্রিকটা মাথায় রেখে কাজ করেন।
তাই অভিনেতার দায়িত্ব সেই বৃহত্তর ভাবনার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। এই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই একজন শিল্পী নিজের সীমা ভেঙে আরও ভালো কিছু করে দেখাতে পারেন। যদিও, অভিনয়ের আগে তাঁর পথচলা ছিল মডেলিং জগতে। খুব অল্প বয়সেই তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে শুরু করেন এবং দ্রুতই পরিচিতিও পান। আঞ্চলিক থেকে জাতীয়, এমনকি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। প্রতিটি বিজ্ঞাপন তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে, ক্যামেরা-সচেতনতা শিখিয়েছে এবং পেশাদার জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ভিত্তি তৈরি করেছে।
এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে বড় পর্দায় কাজের সময় তাঁকে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন অনেকে। চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক হয় ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চ্যাম্প’ ছবির মাধ্যমে, যেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন বর্তমান প্রেমিক দেব। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কাড়েন তিনি। নতুন মুখ হয়েও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি এবং পর্দায় স্বচ্ছন্দ অভিনয় তাঁকে দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান মজবুত করেছেন ইন্ডাস্ট্রিতে।
আরও পড়ুনঃ বিয়ে মাত্র শেষ, নতুন চমক নিয়ে হাজির রণজয়-শ্যামৌপ্তি! সাতপাকে বাঁধা পড়েই ফ্যানদের জন্য প্ল্যান করেছেন সেলিব্রেশন! কী করে পাবেন সুযোগ?
আজকের দিনে রুক্মিণী মৈত্র শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নন, বরং পরিশ্রম আর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ। তাঁর কথাবার্তায় যেমন সংযম, তেমনই কাজে রয়েছে প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাস। প্রতিটি নতুন প্রোজেক্টে তিনি নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চান আর সেই কারণেই দর্শকদের মধ্যেও তাঁকে নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি, কাজ নিয়েও আগ্রহ থেকে যায়। সাফল্যের শিখরে থেকেও শেখার ইচ্ছা বজায় রাখার এই মনোভাবই হয়তো তাঁকে আলাদা করেছে বলে বিশ্বাস অনেকের।
