জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বাংলা আমার মাতৃভাষা, তার টান আলাদাই!” বিশ্বজোড়া সাফল্য, তবু শিকড়ে টান! মারাঠি গানে ঠিক স্বচ্ছন্দ নন, বাংলা গান গেয়েই মঞ্চে আবেগ ছড়ালেন শ্রেয়া ঘোষাল!

ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল বহু ভাষায় গান গেয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর গলায় সুরের জাদু যেমন শ্রোতাদের মুগ্ধ করে, তেমনই নিজের শিকড়ের প্রতি টান যে আজও অটুট, তা সম্প্রতি একটি আলোচনাসভায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠল। অনুষ্ঠানে নিজের সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর কথা বলতে গিয়ে শ্রেয়া ফিরে যান ক্যারিয়ারের এক বিশেষ সময়ে, যখন তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গে উঠে আসে ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘অন্তহীন’-এর জনপ্রিয় গান ‘যাও পাখি বলো’। এই গানটি শুধু তাঁর কেরিয়ারের সাফল্যের অংশ নয়, ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ জায়গা দখল করে আছে বলে জানান শিল্পী। আলোচনার সময় শ্রেয়ার বক্তব্যে বারবার ফুটে ওঠে তাঁর বাঙালি পরিচয়ের গর্ব এবং মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা। বিভিন্ন ভাষায় গান গাইলেও বাংলা তাঁর কাছে আলাদা আবেগ বহন করে, যা তাঁর কথাবার্তা ও স্মৃতিচারণায় স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে শ্রেয়া সেই বছরের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন, যখন তিনি দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন। ২০১০ সালে পাওয়া এই সম্মান তাঁর সংগীতজীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় বাংলা ছবি ‘অন্তহীন’-এর পাশাপাশি মরাঠি ছবি ‘জোগবা’-র ‘জীব রাংলা’ গানটিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। দুটি গানই সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছিল এবং শ্রোতাদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পুরস্কার আসে বাংলা গান ‘যাও পাখি বলো’র জন্য, যা শিল্পীর কাছে বিশেষ আবেগের স্মৃতি হয়ে রয়েছে। শ্রেয়া জানান, দুটি গানই তাঁর হৃদয়ের কাছাকাছি হলেও বাংলা গানটির সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ অনেক গভীর। একই ছবির আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘ফেরারি মন’-এর কথাও তিনি উল্লেখ করেন, যা সেই সময় দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। এই স্মৃতিগুলো তাঁর সংগীতজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আজও উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সঞ্চালক শ্রেয়াকে অনুরোধ করেন বাংলা ও মরাঠি দুটি গানই একটু গেয়ে শোনানোর জন্য। তখনই তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। শ্রেয়া হাসিমুখে জানান, বাংলা তাঁর মাতৃভাষা হওয়ায় ‘যাও পাখি বলো’ গানটি গাইতে তাঁর আলাদা প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না। তিনি বলেন, এই গান তাঁর মনে এমনভাবে গেঁথে আছে যে কোনো সময় সহজেই গেয়ে ফেলতে পারেন। তবে মরাঠি গানের ক্ষেত্রে একই আত্মবিশ্বাস থাকলেও শব্দ মনে রাখতে কখনও কখনও সমস্যা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি। শিল্পীর এই সরল স্বীকারোক্তি উপস্থিত দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। নিজের সাফল্যের মধ্যেও ভাষার পার্থক্য এবং শেখার প্রয়োজনীয়তার কথা যেভাবে তিনি খোলাখুলি বলেন, তা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষার সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক এই মুহূর্তে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মরাঠি গান গাইতে গিয়ে কিছু জায়গায় শব্দ ভুল হলেও তা লুকানোর চেষ্টা করেননি শ্রেয়া। বরং স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি মেনে নিয়ে তিনি জানান, প্রতিটি ভাষার নিজস্ব উচ্চারণ ও অনুভূতি থাকে, যা আয়ত্ত করতে সময় লাগে। দর্শকরাও শিল্পীর এই সততা ও বিনয়কে প্রশংসা করেন। এতে বোঝা যায়, একজন শিল্পীর কাছে শুধু সুর নয়, ভাষার অনুভূতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শ্রেয়া জানান, অন্য ভাষার গান গাওয়ার আগে তিনি যথেষ্ট প্রস্তুতি নেন। গীতিকারদের সঙ্গে বসে প্রতিটি শব্দের উচ্চারণ এবং অর্থ বোঝার চেষ্টা করেন, যাতে গানের আবেগ ঠিকভাবে প্রকাশ পায়। এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমই তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে সংগীতজগতে শীর্ষস্থানে রেখেছে। ভাষা ভিন্ন হলেও আবেগের সংযোগই গানকে সফল করে তোলে বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শ্রেয়া ঘোষাল এখন পর্যন্ত প্রায় ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়েছেন এবং পাঁচটি ভিন্ন ভাষার গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন, যা ভারতীয় সংগীতজগতে বিরল সাফল্য হিসেবে ধরা হয়। এত সাফল্যের পরেও তিনি নিজেকে এখনও সংগীতের ছাত্রী হিসেবেই ভাবেন। নিয়মিত অনুশীলন এবং শেখার আগ্রহ তাঁকে আজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলা, দক্ষিণী বা মরাঠি যেকোনো ভাষার গান গাওয়ার আগে তিনি একই গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নেন। সাম্প্রতিক এই অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্বজোড়া জনপ্রিয়তার মাঝেও নিজের মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা কখনও কমে যায়নি। শ্রোতাদের কাছে তিনি শুধু একজন সফল শিল্পী নন, বরং নিজের পরিচয় ও শিকড়কে সম্মান করা এক গর্বিত বাঙালি হিসেবেও ধরা দিয়েছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page