নস্টালজিয়ার সুরে ভর করে আবার বড়পর্দায় ফিরতে চলেছে এক অন্যরকম প্রেমের গল্প। আর ডি বর্মণের জনপ্রিয় গানগুলিকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন বাংলা ছবি ‘ফিরে এসো অনুরাধা’ (Phire Eso Anuradha)। গান আর সম্পর্কের টানাপড়েন, দুইকে মিলিয়ে তৈরি এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছে তিন বন্ধু, যাঁদের জীবনে একসঙ্গে জায়গা নেয় অনুরাধা। একই মানুষকে ভালোবেসে ফেলার পর বন্ধুত্বের সমীকরণ কীভাবে বদলে যায়, সেটাই তুলে ধরা হবে ছবিতে। শুভঃ মহরৎ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেদিনই সামনে এসেছে ছবির প্রথম ঝলক।
একসঙ্গে হাজির ছিলেন নীল ভট্টাচার্য, আদৃত রায় (Adrit Roy), জন ভট্টাচার্য এবং অঙ্গনা রায়। পরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই ছবির অন্যতম বিশেষ দিক হল আর ডি বর্মণের নিজস্ব গানগুলির ব্যবহার, যা বাংলা সিনেমায় সচরাচর দেখা যায় না। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্তও ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিচ্ছে। এই ছবিতে আদৃতের উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় তাঁর যাত্রা অনেকটাই চর্চিত।
সঙ্গীতনির্ভর এই গল্পে কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি যে বেশ উচ্ছ্বসিত, সেটাও স্পষ্ট। তাঁর মতে, গান তাঁর জীবনের বড় অংশ, তাই এমন একটি প্রোজেক্টে যুক্ত হতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হতে চলেছে। তবে, ছবির প্রচারের মাঝেই কথায় কথায় উঠে আসে তাঁর ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মিঠাই’ (Mithai)-এর প্রসঙ্গ। এই ধারাবাহিক দিয়েই দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি আর সেই সঙ্গে ‘সৌমিতৃষা কুণ্ডু’র (Soumitrisha Kundu) সঙ্গে তাঁর জুটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
যদিও সময়ের সঙ্গে নানান জল্পনা তৈরি হয়েছিল তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে, বিশেষ করে ধারাবাহিকের শেষের দিকে। দুঃখের বিষয় ধারাবাহিকটি হাজার পর্বের মাইলফলক অতিক্রম করতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে একটা সময় উঠে এসেছিল, আদৃতের সঙ্গে সৌমিতৃষার ঝামেলার কথা। সেই সময় মিঠাই ধারাবাহিকের একাধিক সহ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও অভিযোগ জানিয়েছিলেন সৌমিতৃষার বদলে যাওয়া ব্যবহারকে নিয়ে। ধারাবাহিক শেষ হওয়ার পরেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন আদৃত, সেখানেও সৌমিতৃষাকে অনুপস্থিত দেখে জল্পনা বেড়েছিল কয়েক গুণ।
এবার সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই আদৃত অকপটে বলেন, “সৌমিতৃষার সঙ্গে আমার তেমন কোনও সমস্যা নেই। সমস্যা থাকলে আড়াই বছর কি করে এক সঙ্গে অভিনয় করতাম? ও কোনদিনও এমন কোনও কথা বলেনি বা আমিও এমন কিছু বলিনি যেটা নিয়ে অশান্তি হতে পারে। দিনের শেষে আমরা সবাই পেশাদার অভিনেতা। কাজ করতেই আসা, বন্ধু বানাতে নয়। বন্ধু-বান্ধব সবার থাকে আমারও আছে, তবে তারা অভিনয় জগতের কেউ নয়। যারা শেষ ৩০ বছর ধরে আমার বন্ধু, তাদেরকেই আমি বেশি প্রাধান্য দেই।
তবে আমার মতে, সৌমিতৃষা ভীষণ রকমের ভালো একজন সাধারন অভিনেত্রী! সৌমিতৃষা খুব কেয়ারিংও, তবে সারাক্ষণ একে অপরের পেছনে লাগতাম। আমার কোনদিনও সমস্যা হয়নি ওর সঙ্গে অভিনয় করতে, তবে আমরা বন্ধু নই! ওর পছন্দের জায়গাগুলো আলাদা, আমারটা আলাদা। আমরা দুজন ভিন্ন মানুষ, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাদের মধ্যে মনোমালিন্য বা কোনও রকম ঝামেলা চলছে। তুমি ওকে এমন জায়গায় দেখতে পাবে, যেখানে আমি থাকি না। আমার বৃত্তটা অনেকটাই ছোট।”
আরও পড়ুনঃ জি বাংলার ধারাবাহিকের দাপট! সবাইকে পিছনে ফেলে শীর্ষে ‘পরিণীতা’! শুরুতেই কি টিআরপি তালিকায় জায়গা করে নিল ‘গঙ্গা’? একসময়ের দাপুটে ‘প্রোফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’ এখন তলানিতে, তাহলে কি দর্শকের পছন্দ ধীরে ধীরে জি বাংলার ধারাবাহিকের দিকেই ঝুঁকছে?
এই বক্তব্যের পর অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে, এতদিনের গুঞ্জনের মধ্যে কতটা সত্যি ছিল আর কতটা ছিল শুধুই অনুমান। কাজের জায়গায় পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখেই এগিয়ে চলেছেন তিনি, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন আদৃত। অন্যদিকে ‘ফিরে এসো অনুরাধা’ ছবিটি এখনই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। গল্প, গান আর সম্পর্কের টানাপড়েন মিলিয়ে এই ছবি শেষমেশ কতটা মন জয় করতে পারে, সেটাই দেখার অপেক্ষা!
