বাংলা চলচ্চিত্র এবং সংস্কৃতি জগতের এক অমূল্য রত্ন, জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত আর আমাদের মাঝে নেই। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি অটোইমিউন ডিজিজে ভুগছিলেন, যার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছিল। তাঁর প্রয়াণে বাংলা শিল্পমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
২০০৪ সালে ‘শ্যাডোজ অফ টাইম’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। এরপর তিনি একে একে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সিনেমায় অভিনয় করেন, বিশেষ করে ২০১১ সালের ‘বাইশে শ্রাবণ’, ২০১৭ সালের ‘ফেলুদা’ এবং ২০১৯ সালের ‘গুমনামী’ ছবিতে তাঁর অভিনয় ছিল অসাধারণ। এছাড়া, ২০১৯ সালে ‘দেবতার গ্রাস’ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং নাসিরুদ্দিন শাহের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয় তাঁর। সিনেমার পাশাপাশি টেলিভিশন প্রোগ্রামেও তিনি নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন, যেখানেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল।
বিপ্লব দাশগুপ্ত শুধু অভিনেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ বাচিকশিল্পীও। তাঁর কণ্ঠের মাধুর্য এবং আবৃত্তির গভীরতা অনেকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি বহুদিন ধরে শিক্ষকতা, ভয়েস-ওভার এবং বিজ্ঞাপন জগতে কাজ করেছেন। তাঁর প্রতিভা এবং কর্মজীবন বাংলা সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন সাহিত্যের প্রতি গভীর আগ্রহী, যার প্রভাব তাঁর কাজ এবং জীবনযাপনে স্পষ্ট ছিল।
বিপ্লব দাশগুপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি সাহিত্য এবং নাট্যকলায় আগ্রহী হয়ে সিনেমা ও নাটকের জগতে প্রবেশ করেন। একদিকে যেমন তাঁর অভিনয় এবং আবৃত্তি ছিল অনন্য, তেমনি সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর ভালোবাসাও ছিল গভীর। তাঁর এই বহুমুখী প্রতিভা তাঁকে বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম একজন শক্তিশালী অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও পড়ুনঃ “বৌয়ের কথা শুনে চলতেই হবে!” অভিনেতা সুদীপ সরকারের জন্য কড়া নির্দেশ চিকিৎসকের! হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলে এখন পুরোপুরি সুস্থ নন অভিনেতা, কী জানালেন স্ত্রী অনিন্দিতা?
বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কাজ এবং স্মৃতি সবার মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবে। অনেকেই তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন, তাঁর শখ, পেশা এবং সৃষ্টির মধ্যে তিনি আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য তাঁর কাজ এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
