শুক্রবার দুপুরে কলকাতার টলিপাড়ায় এক দুঃখজনক খবর ছড়িয়ে পড়ল। ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বাংলা সিনেমার বিশিষ্ট অভিনেতা এবং বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত। গল্ফ ক্লাব রোডের নিজ বাসভবনে দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ তিনি মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এই খ্যাতনামা অভিনেতা, এবং শেষদিনগুলোতে তার চিকিৎসা চলছিল বাড়িতেই। তার মৃত্যুতে বাংলা সিনেমা এবং থিয়েটার জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, কারণ তিনি ছিলেন এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিভা।
বিপ্লব দাশগুপ্ত দীর্ঘদিন ধরেই স্নায়ুতন্ত্রের এক অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যা তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন খারাপ করেছিল। চিকিৎসার জন্য একাধিকবার তিনি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে শেষমেশ তিন মাস ধরে নিজ বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার স্ত্রী, রুমা দাশগুপ্ত জানান, প্রয়াণের দিন সকালেও তিনি স্বাভাবিকভাবে প্রাতরাশ খেয়েছিলেন। তবে, স্পঞ্জ করানোর সময় আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
এই শোক সংবাদ প্রকাশ্যে আসার পর, শিল্পী এবং তার অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিদীপ্তা চক্রবর্তীসহ অনেকেই তার বাড়িতে গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তবে, বিপ্লব দাশগুপ্তের মৃত্যু সবচেয়ে বেশি শোকাহত করেছেন তার সহকর্মী এবং বন্ধু, অভিনেতা জিতু কামাল। তাদের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আত্মিক। জিতু কামাল সামাজিক মাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তা লিখে তার শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার জীবনে বিপ্লব দাশগুপ্তের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন।
জিতু আরও জানান, ২০১৪ সালে তার সঙ্গে প্রথম পরিচয় হয় বিপ্লব দাশগুপ্তের। ২০১৯ সালে এক প্রজেক্টে তিনি তার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যা তাদের সম্পর্কের আরও গভীরতা আনয়ন করে। ২০২২ সালে, ‘অপরাজিত’ ছবির শুটিংয়ের সময় বিপ্লব দাশগুপ্ত তাকে সত্যজিৎ রায়ের সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখিয়ে এবং উত্তম কুমারের ছবি দেখিয়ে তার কাজের জন্য অনেক সাহায্য করেছিলেন। পাশাপাশি, তিনি জিতুকে আরও অনেক শিক্ষাও দেন, যা তার পেশাদার জীবনকে আলোকিত করেছে।
বিপ্লব দাশগুপ্ত কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তার বাচিক শিল্পও ছিল অনন্য। বাংলা থিয়েটার এবং সিনেমার জগতে তার অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে হোটেলে থাকা এবং সেখানকার খাবারের স্বাদ গ্রহণের এক নতুন অভিজ্ঞতা জিতুকে দিয়েছিলেন, যা তাকে এক নতুন নেশায় জড়িয়ে দিয়েছিল। উত্তম কুমারের কণ্ঠ অনুকরণ এবং সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার আলোচনায় তার যে আনন্দ ছিল, তা সবার মনে থাকবে। তার প্রয়াণের পর, টলিপাড়ার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র চলে গেলো, তবে তার শিল্পের উত্তরাধিকার চিরকাল থাকবে।
আরও পড়ুনঃ প্রয়াত বিশিষ্ট অভিনেতা ও বাচিকশিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্ত! বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতি!
বিপ্লব দাশগুপ্ত ছিলেন একজন অনুপ্রেরণা, একজন শিক্ষক এবং একজন বন্ধু। তার প্রয়াণ বাংলা সংস্কৃতি এবং শিল্পের জন্য এক বড় ক্ষতি। তবে, তার রেখে যাওয়া কাজ এবং স্মৃতিগুলো বাংলা সিনেমা এবং থিয়েটার জগতে চিরকাল অম্লান থাকবে। তার এই অকাল প্রয়াণের খবরে শোকস্তব্ধ হয়ে আছেন সহকর্মীরা, অনুরাগীরা এবং তার পরিবার।
