জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

৯ বছরের ছেলের চোখে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ! অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব, লকডাউনে সবজি বিক্রি থেকে টলিউডের উত্থান! অদম্য চেষ্টা আর জীবন সংগ্রামের অজানা কাহিনী ভাগ করলেন ঋত্বিক মুখার্জী!

টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক মুখার্জী নিজের জীবনের কঠিন সংগ্রামের গল্প শেয়ার করেছেন। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ তার জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল, তবে সেই শৈশবের কষ্টের অভিজ্ঞতা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এক সাক্ষাৎকারে ঋত্বিক বলেন, ছোটবেলায় তিনি কখনোই অভাব বা একাকীত্ব অনুভব করেননি কারণ তার মা তাকে খুব ভালোবাসতেন এবং এককভাবে তাকে বড় করেছেন। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে বাবা-মায়ের আলাদা হয়ে যাওয়া নিয়ে তার মধ্যে একটি গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়। তিনি অবশ্য তার বাবার প্রতি কোন রাগ বা ক্ষোভ প্রকাশ করেননি, বরং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন।

ঋত্বিকের কেরিয়ার শুরু হয়েছিল একদম সাধারণ জীবন থেকে। লকডাউনের সময় যখন আর্থিক সংকট তীব্র হয়ে উঠেছিল, তখন তাকে সবজি বিক্রি পর্যন্ত করতে হয়েছে। তবে তিনি এই সময়টিকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন এবং মনে করেন, এই অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের কষ্ট ও সংগ্রাম বুঝতে সাহায্য করেছে। পরে ধীরে ধীরে অভিনয়ে পদার্পণ শুরু হয়, এবং তাকে বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে সুযোগ পাওয়া যায়। তার এই পথচলা ছিল একদম মাটির কাছাকাছি, যা তাকে জীবনের মূল শিক্ষা দিয়েছে।

টলিপাড়ায় ঋত্বিক এবং অভিনেত্রী শ্রীতমা মিত্রের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল অনেকদিন ধরেই। ‘মন দিতে চাই’ ধারাবাহিকে একসাথে কাজ করার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন কথা শোনা যায়। তবে ঋত্বিক কখনোই এই সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরকে আনফলো করার পর, টলিপাড়ায় তাদের বিচ্ছেদের খবরও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঋত্বিক নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি আলোচনা করতে চান না এবং বর্তমানের ওপর বেশি মনোযোগ দেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের পোশাক নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গেও ঋত্বিক তার মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, অনেক সময় কিছু মানুষ মেয়েদের ছোট পোশাক বা ক্লিভেজ নিয়ে আপত্তি জানালেও, সেই একই মানুষ আবার এগুলো শেয়ার করে বা প্রচার করে। তার মতে, এটা এক ধরনের দ্বিচারিতা এবং পোশাক ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিষয় হওয়া উচিত। সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতা বদলানোর আহ্বান জানান তিনি, কারণ পোশাক নিয়ে বিচার করা কখনোই ঠিক নয়।

সাক্ষাৎকারের শেষে ঋত্বিক তার জীবন দর্শন নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, জীবনে সাফল্য, ব্যর্থতা বা নতুন শুরু—সবই পরিবর্তনশীল। তার অভিজ্ঞতা তাকে শিখিয়েছে যে, যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে চলাই আসল শিক্ষা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ, লকডাউনের কঠিন সময় কিংবা ক্যারিয়ারের ওঠাপড়া—সবকিছু মিলিয়ে ঋত্বিক আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। জীবনের প্রতিটি অভিজ্ঞতাকে তিনি সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং কখনোই অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হন না।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page