জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’য় (Jowar Bhanta) একের পর এক টুইস্টে এখন তুমুল চর্চা চলছে দর্শকমহলে। কিছুদিন আগেই গল্পে দেখা গিয়েছিল ঋষি ও নিশার মুখোমুখি সংঘর্ষ। সেই সময় নিশাকে গুলি করতে দেখা যায় ঋষিকে। তবে পরে জানা যায়, আসলে সে ঋষি ছিল না। ঋষির ছদ্মবেশ নিয়ে নিশাকে মারতে গিয়েছিল সায়ন্তন। যদিও পুরো ঘটনায় সন্দেহ তৈরি হলেও উজি তাকে হাতেনাতে ধরতে পারেনি। সেই পর্ব দেখেই দর্শকদের মধ্যে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। এরপর থেকেই অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন, এবার গল্প কোন দিকে মোড় নেবে। আর সেই জল্পনার মধ্যেই সামনে এসেছে ধারাবাহিকের নতুন প্রোমো, যেখানে আরও বড় বিপদের ইঙ্গিত মিলেছে।
নতুন প্রোমোতে দেখা যাচ্ছে, উজি ও নিশাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাড়িতে চলছে খেয়ার বিয়ে। সায়ন্তনের সঙ্গেই বিয়ে হচ্ছে খেয়ার। কিন্তু দর্শক ইতিমধ্যেই জেনে গিয়েছেন, সায়ন্তন আসলে একজন সুবিধাবাদী ও দাগি অপরাধী। খেয়াকে ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ পূরণ করাই তার আসল উদ্দেশ্য। সেই কারণেই প্রেমের অভিনয় করে ধীরে ধীরে বিয়ে পর্যন্ত বিষয়টা নিয়ে এসেছে সে। এই সত্যিটা বুঝতে পেরে উজি বারবার খেয়াকে সতর্ক করার চেষ্টা করে। কিন্তু উল্টে খেয়াই বৌমণিকে ভুল বুঝতে শুরু করে। যে খেয়া একসময় উজিকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারত না, সেই খেয়াই এখন সায়ন্তনের কথায় এতটাই অন্ধ যে উজির বিরুদ্ধে দাঁড়াতেও পিছপা হচ্ছে না।
গল্পে দেখানো হয়েছে, খেয়া মনে করছে গত ১৫ বছর ধরে সে মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিল এবং সেই অবস্থা থেকে নাকি তাকে বের করে এনেছে সায়ন্তন। অথচ আসল সত্যি হলো, দীর্ঘদিন ধরে খেয়াকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেছে উজিই। কিন্তু প্রেমে অন্ধ হয়ে সেই সত্যিটাই ভুলে যাচ্ছে খেয়া। উজি যখনই কোনও তথ্য পেয়ে বা সন্দেহের ভিত্তিতে সায়ন্তনের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছে, তখনই খেয়া আরও রেগে যাচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, সে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দেয়। শেষ পর্যন্ত খেয়ার ইচ্ছেতেই পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে রাজি হয়ে যান।
আর এই বদলে যাওয়া খেয়াকেই দেখে অবাক দর্শক। কারণ যে মেয়ে একসময় ভালো-মন্দ বিচার করতে পারত, সেই এখন একজন খারাপ মানুষের জন্য নিজের কাছের মানুষদেরও কষ্ট দিতে প্রস্তুত। এরই মধ্যে গল্পে আসে আরও বড় মোড়। খেয়ার বিয়ের দিন আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায় উজি। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় ঋষির। সে বারবার ফোন করে উজির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও কোনও উত্তর পায় না। ধীরে ধীরে তার উদ্বেগ বাড়তে থাকে। অন্যদিকে দেখা যায়, যে ঘরে উজি ও নিশাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে, সেই ঘর হঠাৎ ধোঁয়ায় ভরে উঠছে। আর সেই ধোঁয়ার মধ্য দিয়েই সামনে আসে দুর্জয়!
আরও পড়ুন : শেষ পর্বে সুখের চমক? কন্যা সন্তানের মা-বাবা হতে চলেছে আর্য অপর্ণা! ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’এর অন্তিম পর্বে দর্শকদের জন্য রয়েছে বিরাট চমক?
প্রোমো দেখে মনে করা হচ্ছে, পুরো চক্রান্তের পিছনে তারই হাত রয়েছে। এরপর সেই ঘরে আগুন মধ্যে আটকে পড়ে যায় উজি ও নিশা। দুই বোন সত্যিই বড় বিপদের মুখে? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে দর্শকদের মনে। তবে, নতুন প্রোমো সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। অনেক দর্শকের মত, খেয়া এখন এতটাই পাল্টে গিয়েছে যে উজির কোনও কথাই আর বিশ্বাস করছে না। বরং একজন অপরাধীর কথায় নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষকেই ভুল বুঝছে। তাই এবার অনেকেই চাইছেন, উজি যেন কোনও ভাবেই খেয়া ও সায়ন্তনের বিয়ে আটকাতে না পারে! দর্শকদের একাংশের মতে, বিয়ের পর সায়ন্তনের অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েই খেয়ার উপলব্ধি হওয়া উচিত যে সে কত বড় ভুল করেছে। তাঁদের দাবি, সেটাই হবে খেয়ার প্রাপ্য শিক্ষা।
