জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“সব একসঙ্গে সম্ভব নয়…….. সিনেমা করাটা আর হলো না” বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর বড় পর্দা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়? ভবিষ্যতে কী নিয়েই থাকতে চাইছেন অভিনেত্রী?

একটা সময় বাংলা বিনোদন জগতের বহু জনপ্রিয় শিল্পী তাঁদের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব আর কাজের মাধ্যমে দর্শকের মনে আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন। বড় পর্দা কিংবা টেলিভিশনের পর্দায় তাঁদের উপস্থিতি মানেই ছিল বাড়তি উন্মাদনা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিচিত মুখই ধীরে ধীরে আড়ালে চলে গিয়েছেন। কেউ পরিবারকে সময় দিয়েছেন, কেউ আবার অন্য পেশায় মন দিয়েছেন। কিন্তু দর্শকের কৌতূহল কখনও কমে না। তাই বারবার প্রশ্ন ওঠে, সেই প্রিয় তারকারা আবার কবে ফিরবেন বড় পর্দায় বা টেলিভিশনের নিয়মিত কাজে? ঠিক এমনই এক প্রশ্ন ঘিরে ফের আলোচনায় উঠে এলেন অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলা ছবি এবং বাংলা টেলিভিশনের দর্শকদের কাছে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এক অত্যন্ত পরিচিত নাম। নব্বই দশক থেকে শুরু করে দীর্ঘ সময় বাংলা বাণিজ্যিক ছবির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন তিনি। একের পর এক হিট ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন রচনা। তবে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তিনি আরও বেশি পরিচিত ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’-এর সঞ্চালক হিসেবে। জি বাংলার এই জনপ্রিয় নন-ফিকশন শোয়ের মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি বহু বছর ধরেই। অন্যদিকে, গত কয়েক বছরে তাঁকে খুব একটা বড় পর্দায় দেখা যায়নি। ‘রামধনু’র মতো কিছু ছবিতে অভিনয় করলেও নিয়মিত সিনেমা থেকে নিজেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে রেখেছেন অভিনেত্রী।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি এখন আর সিনেমায় অভিনয় করছেন না। উত্তরে অভিনেত্রী স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, তাঁর জীবনের প্রায়োরিটি এখন সম্পূর্ণ অন্য জায়গায়। তিনি বলেন, বর্তমানে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ই তাঁর প্রথম পছন্দ এবং সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে এই শোয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে দর্শকদের সঙ্গে তাঁর একটা আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই কাজটাকে তিনি গুরুত্ব দিয়েই করতে চান। শুধু তাই নয়, নিজের ছেলে এবং পরিবারকেও তিনি সমান গুরুত্ব দিতে চান বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

রচনার কথায়, সবকিছু একসঙ্গে সামলানো তাঁর পক্ষে সহজ নয়। তাই তিনি নিজের জীবনকে ব্যালেন্স করে চলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। অভিনেত্রী স্পষ্ট বলেন, “তাই সিনেমাটা সম্ভব হয়নি আর করা। আমি জানতাম যে আমার সম্ভব হবে না। কারণ আমার কাছে সবকিছু ব্যালেন্স করে চলাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, ব্যালেন্স করে চলতে পারলে জীবন অনেক বেশি স্মুথলি যায়।” তাঁর মতে, যদি সব দিক সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেই পরিস্থিতিতে কোনও কিছুই ঠিকভাবে করা সম্ভব নয়। তাই নিজের সামর্থ্য এবং সময় বুঝেই তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এছাড়াও অভিনেত্রী জানিয়েছেন, শুধু টেলিভিশন বা পরিবার নয়, তাঁর কিছু ছোটখাটো ব্যবসাও রয়েছে, যেগুলোর দিকেও তিনি বর্তমানে সমানভাবে নজর দিতে চান। সেই কারণেই সিনেমায় নিয়মিত সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। রচনার এই সোজাসাপ্টা স্বীকারোক্তি অনেক দর্শকের মনেই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ভবিষ্যতে কি আবার বড় পর্দায় দেখা যাবে তাঁকে? যদিও অভিনেত্রী এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি, তবে আপাতত নিজের বর্তমান জীবন, পরিবার, কাজ এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট বলেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page