জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ছোটবেলায় ইতিহাস মানেই আতঙ্ক! সেই আবিরই এখন ইতিহাসে মজে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা! ‘পাতিহাঁস’ মনে হত, তারপর কী এমন ঘটল যে সোনাদার মতো ইতিহাসপ্রেমী হয়ে উঠলেন অভিনেতা?

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় চরিত্র সোনাদা এখন দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত নাম। ইতিহাসের অধ্যাপক হয়েও রহস্য সমাধান আর গুপ্তধনের খোঁজে বারবার দেখা যায় তাঁকে। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’ ছবিতেও সেই একই বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাহসী সোনাদাকেই পেয়েছেন দর্শকরা। তবে পর্দায় ইতিহাসপ্রেমী চরিত্রে অভিনয় করলেও বাস্তব জীবনে ইতিহাস বিষয়ে ছোটবেলায় খুব একটা আগ্রহ ছিল না অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়ের। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের ছাত্রজীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। সেখানেই উঠে এসেছে ইতিহাস নিয়ে তাঁর পুরনো অনীহার কথা। পরে অবশ্য বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা বদলাতে শুরু করে। এখন ইতিহাসের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অনেকটাই বেড়েছে বলেই জানিয়েছেন অভিনেতা।

আনন্দবাজার অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবির বলেন, ছোটবেলায় ইতিহাসের চেয়ে অন্য বিষয় পড়তেই বেশি ভালো লাগত তাঁর। বিশেষ করে ইতিহাসে অনেক সাল-তারিখ মনে রাখা এবং দীর্ঘ উত্তর লেখার চাপ তাঁকে বিরক্ত করত। সেই সময়কার পড়াশোনার ধরনও বিষয়টিকে আরও কঠিন করে তুলেছিল বলে মনে করেন তিনি। অভিনেতার কথায়, “২০০৫ বা তার আগে আমরা যখন পড়াশোনা করতাম, তখন ইতিহাসে অনেক বড় বড় উত্তর লিখতে হত।” শুধু তাই নয়, অনেক সময় সব পয়েন্ট মনে না থাকলে একটি বিষয়কে ভেঙে ভেঙে লিখেও উত্তর পূরণ করতে হত বলেও জানান তিনি। ফলে ইতিহাস থেকে দূরে থাকাটাই তখন স্বাভাবিক ছিল।

যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাস সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করে। আবির মনে করেন, প্রত্যেক মানুষের নিজের দেশের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা থাকা খুব প্রয়োজন। বয়স বাড়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, ইতিহাস শুধুমাত্র পরীক্ষার বিষয় নয়, বরং সমাজ ও সংস্কৃতিকে জানারও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অভিনেতা মজার ছলে বলেন, “এখন আর ইতিহাসকে পাতিহাঁস বলে মনে হয় না।” নম্বর পাওয়ার চাপ না থাকায় এখন বিষয়টিকে অনেক সহজ এবং আকর্ষণীয় লাগে তাঁর। ছোটবেলার বিরক্তি ধীরে ধীরে জায়গা করে দেয় আগ্রহ আর ভালোবাসাকে। আর সেই কারণেই হয়তো এখন ইতিহাসভিত্তিক চরিত্রেও তিনি এতটা স্বচ্ছন্দ।

অন্যদিকে, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছে। গরমের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে ভিড় করছেন অনেকেই। রহস্য, গুপ্তধনের খোঁজ এবং টানটান গল্প মিলিয়ে ছবিটি ছোট থেকে বড়, সকলের মন কাড়ছে। আগের ছবিগুলোর মতো এবারও আবিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছেন ইশা সাহা এবং অর্জুন চক্রবর্তী। এছাড়াও ছবিতে দেখা যাচ্ছে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং রজতাভ দত্তকে। বিশেষ করে বহুদিন পর আবার ‘দশানন’ চরিত্রে রজতাভকে দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। ছবির চরিত্র এবং গল্প দুটোই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সোনাদা চরিত্রটি বরাবরই বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। ইতিহাসের অধ্যাপক হয়েও যেভাবে রহস্যভেদ করতে দেখা যায় তাঁকে, তা দর্শকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। আর সেই চরিত্রে আবির চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ও প্রশংসা পাচ্ছে বারবার। বাস্তব জীবনে ইতিহাসকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার অভিজ্ঞতাও তাই তাঁর অভিনয়ে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। বর্তমানে ‘সপ্তডিঙ্গার গুপ্তধন’ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। একই সঙ্গে আবিরের ব্যক্তিগত ইতিহাসপ্রেম নিয়েও শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। অভিনেতার এই অকপট স্বীকারোক্তি ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে অনুরাগীদের।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page