জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas) ধীরে ধীরে দর্শকদের মধ্যে নিজের জায়গা তৈরি করে নিচ্ছে। গল্পে ছোট্ট মিঠির জীবনে একের পর এক বিপদ যেন থামতেই চাইছে না। দীর্ঘদিন ধরে যে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে তাকে থাকতে হয়েছে, তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সে অবশেষে সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, সব বাধা পেরিয়ে মিঠি চুপিসারে বেরিয়ে আসে বাড়ি থেকে, যেখানে তার প্রতিটা দিন কেটেছে ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। তার একটাই লক্ষ্য, কোনওভাবে পল্লবীর কাছে পৌঁছতে হবে। কারণ এই কঠিন সময়ে পল্লবীকেই সে নিজের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করে।
অন্যদিকে, মিঠির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও পল্লবীর মনে যেন অদ্ভুত এক টান কাজ করে। হঠাৎ করেই তার মনে অস্বস্তি তৈরি হয়, যেন খুব কাছের কারও জীবনে কোনও বিপদ নেমে এসেছে। সে কারণ বুঝতে না পারলেও অজানা এক উদ্বেগ তাকে গ্রাস করে। ঠিক সেই সময়েই মিঠি নিজের জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্তের মুখোমুখি হয়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলেও মুক্তির পথ তার জন্য এত সহজ ছিল না। এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে মুহূর্তের জন্য সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সেই সংকটের সময়েই গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় আদিত্য। ঘটনাচক্রে সে সেখানে উপস্থিত হয় এবং নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই মিঠিকে বড় বিপদ থেকে উদ্ধার করে। এখনও ঠিক করে হাটতে না পারায় গাড়ির ধাক্কার হাত থেকে বাঁচাটা যেন অবিশ্বাস্য ছিল, আতঙ্কে ভেঙে পড়া মিঠি তখন বারবার শুধু পল্লবীর নাম বলতে থাকে। আদিত্য তার অতীত বা পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানতে চায় না, তার অসহায় অবস্থা দেখে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। মিঠির অনুরোধে সে পল্লবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে এবং এখন থেকেই হয়তো নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।
ফোনে মিঠির কান্নাভেজা গলা শুনে পল্লবীও আর স্থির থাকতে পারে না। পরিস্থিতি বুঝে সে আদিত্যকে অনুরোধ করে মিঠির খাবার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে এবং ঠিকানা দিয়ে বলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যেতে। আদিত্যও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেই কথাই পালন করতে শুরু করে। এই পুরো ঘটনার মধ্যে আদিত্য ও পল্লবীর মধ্যে আবারও এক অদৃশ্য যোগাযোগ তৈরি হতে দেখা যায়। অনেক দর্শকেরই মনে হচ্ছে, মিঠিকে ঘিরেই হয়তো ভবিষ্যতে এই দুই চরিত্রের পথ আরও কাছাকাছি আসবে।
আরও পড়ুনঃ ‘বাঘিনী’ থেকে ‘ইচ্ছাধারী নাগকন্যা’, একদিন দুটি নতুন গল্পের ঘোষণা! একের পর এক নতুন মেগা আনছে জি বাংলা,বিদায় নেবে কোন কোন ধারাবাহিক? জল্পনা শুরু দর্শকমহলে!
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পল্লবী মিঠির কাছে পৌঁছনোর আগেই সুপর্ণা ও সানির কারণে বাড়ি যেতে বাধ্য হয়। বাড়িতে গিয়ে মিঠিকে না পেয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্বাভাবিকভাবেই মিঠির পালিয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসতেই দোষারোপের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে পল্লবী। একদিকে মিঠিকে খুঁজে পাওয়ার চিন্তা, অন্যদিকে নতুন নতুন অভিযোগ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। তবে সাম্প্রতিক পর্বের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে আদিত্য, পল্লবী ও মিঠির এই নতুন সমীকরণ। এখন দর্শকদের কৌতূহল, মিঠিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংযোগ কি শেষ পর্যন্ত আদিত্য ও পল্লবীকে আরও একবার এক সুতোয় বেঁধে দেবে?
