রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবার প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় বদল আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেয়ে এলেও এখন সেই সুবিধা আর থাকছে না। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে ওয়াই ক্যাটাগরিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রাজনৈতিক নেতা এবং জনপ্রতিনিধির নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই সৌরভের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি হয়েছে। ফলে আগামী দিনে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো অনুযায়ী তাঁকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
জেড ক্যাটাগরি এবং ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জেড ক্যাটাগরির ক্ষেত্রে সাধারণত প্রায় ৩৫ জন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে থাকেন। এর মধ্যে রাজ্য পুলিশের প্রশিক্ষিত কমান্ডোও অন্তর্ভুক্ত থাকেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের সময় পাইলট কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। অন্যদিকে ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা তুলনামূলকভাবে সীমিত। সেখানে সাধারণত ৩ থেকে ৪ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকেন এবং তাঁদের মধ্যে দু’জন সশস্ত্র রক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে নিরাপত্তা বলয়ের পরিধি আগের তুলনায় অনেকটাই কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, এতদিন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন পুলিশকর্মী ছিলেন। তবে এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তাই পেতেন। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের তিনজন সদস্য তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই নয়, তাঁর বাসভবনেও নিয়মিত পুলিশ মোতায়েন থাকত। সেই সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাঁর নিরাপত্তার স্তর বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
২০২৩ সালের মে মাসে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা জেড ক্যাটাগরিতে উন্নীত করে। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর ছিল দীর্ঘ সময় ধরে। কিন্তু রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন প্রশাসন বিভিন্ন ব্যক্তির সরকারি নিরাপত্তা নিয়ে পুনর্বিবেচনা শুরু করে। সেই পর্যালোচনার ফলেই সৌরভের নিরাপত্তা আবার আগের স্তরে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন থেকে তিনি ওয়াই ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন। প্রশাসনের তরফে এই পরিবর্তনকে নিয়মিত মূল্যায়নের অংশ বলেই দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “সিনেমা দেখার ব্যাপারটা পৃথিবী থেকে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে” বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে কেন এমন আশঙ্কা চিরঞ্জিত চক্রবর্তীর? “জিৎ মূলত কমার্শিয়াল ছবির নায়ক, আর দেব ভিন্নধর্মী ও সাহসী চরিত্রের পথে হাঁটছে” দুই সুপারস্টারের তুলনা টেনে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সংকট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কী বার্তা দিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রয়োজনের বেশি নিরাপত্তা কাউকে দেওয়া হবে না এবং কারা সরকারি নিরাপত্তা পাবেন তা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাও কমানো হয়েছিল। পরে সোনারপুরে জনরোষের ঘটনার পর তাঁর জন্য এক্স ক্যাটাগরির নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়। একই সঙ্গে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারসহ আরও প্রায় ১০ জন নেতার নিরাপত্তা কমানো হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই এবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হল।
