জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এ (Kamala Nibas) এবার একসঙ্গে এগোচ্ছে একাধিক সম্পর্কের গল্প। সাম্প্রতিক পর্বে দেখা গেল, পল্লবীর পরিচয় জানার ব্যাপারে ক্রমশ বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে আদিত্য। তার বিশ্বাস, মিঠির পরিবারের সঙ্গে পল্লবীর কোনও না কোনও যোগসূত্র অবশ্যই রয়েছে। সেই কৌতূহল থেকেই সে ছদ্মবেশে মিঠিদের বাড়িতে পৌঁছে খোঁজ শুরু করে। তবে পল্লবী সম্পর্কে আদিত্য এখনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই জানে না। ফলে সে যেসব ধারণা তৈরি করছে, তার বেশিরভাগই বাস্তবের সঙ্গে মিলছে না। এমনকি মিঠির প্রিয় ‘মাম্মাম’ এবং তার মনের মানুষের মধ্যে যে অদ্ভুত সংযোগ রয়েছে, সেটাও এখনও তার অজানা।
অন্যদিকে ছোট্ট মিঠি সেই আঙ্কেলকে ভুলতেই পারছে না, যিনি একদিন তাকে স্নেহ করে মাছ-ভাত খাইয়েছিলেন। সেই স্মৃতি এতটাই গভীর যে ঝিনুকের বিয়ের অনুষ্ঠানে তাকে দেখার জন্য সে বারবার বায়না করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তার ইচ্ছার কাছে হার মানেন পল্লবী। নিজেই আদিত্যকে ফোন করেন এবং ঝিনুকের বিয়েতে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানান। শুধু নিমন্ত্রণই নয়, পল্লবী জানায় যে সে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে আদিত্যকে ধন্যবাদও জানাতে চায়। ফোনের ওপার থেকে এই কথা শুনে আদিত্যের আনন্দ আর ধরে না। সে মনে করতে থাকে, এই বিয়ের অনুষ্ঠানই হয়তো তার সামনে বহু অজানা সত্যি উন্মোচন করবে।
এদিকে গুহ বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। বাড়ির প্রতিটি কোণে আনন্দের আবহ। নাচ, গান, আড্ডা আর প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে জমে উঠেছে অনুষ্ঠান। পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মতো করে এই বিশেষ দিনটাকে স্মরণীয় করে তুলতে ব্যস্ত। বাড়ির ছেলেরা এবং তাদের স্ত্রীদের একসঙ্গে নাচতে দেখা যায় গানের তালে। ছোট থেকে বড়, প্রায় সবাই কোনও না কোনও ভাবে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানের আনন্দ আরও বাড়িয়ে তোলে। ফলে বিয়ের বাড়ির পরিবেশ একেবারে খুশির রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় মোড় আসে ঝিনুক এবং সম্রাটকে ঘিরে। পরিবারের সকলের সামনে সম্রাট নিজের মনের কথা খুলে বলতে দেখা যাবে। দীর্ঘদিনের অনুভূতি আর না বলা আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে সে জানাবে, জীবনে অনেক অভাব আর কষ্ট থাকলেও ঝিনুককে পাওয়ার পর তার সেই অভিমান আর নেই। সম্রাটের মুখে এমন কথা শুনে বাড়ির সকলেই অবাক হয়ে যাবে। কমলাও বিস্ময়ের সঙ্গে পুরো ঘটনাটা দেখবে। এরপর পরিস্থিতি আরও রোমান্টিক হয়ে যায়। সবার সামনে সম্রাট হাঁটু গেড়ে বসে হাতে গোলাপ নিয়ে ঝিনুককে ভালোবাসার কথা জানায়।
আরও পড়ুনঃ “জোয়ার ভাঁটা মানেই শ্রুতি দাস, গল্পের সবথেকে আকর্ষণীয় চরিত্র নিশা, “এক্সপ্রেশন দিয়ে সমসাময়িক অনেক নায়িকাকেই টক্কর দিতে পারে” নিশা মিত্র চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ে দর্শকদের মন জয় করে প্রশংসার বন্যায় ভাসছেন অভিনেত্রী! আপনাদের কেমন লাগে এই চরিত্রকে?
তার মুখে প্রথমবার ‘আই লাভ ইউ’ শুনে মুহূর্তটা বিশেষ হয়ে ওঠে ঝিনুকের জন্য। আর ঠিক সেই সময় অন্যদিকে আদিত্যও নিজের মনে পল্লবীকে নিয়ে নানান স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। বিয়ের অনুষ্ঠানে পল্লবীর সঙ্গে দেখা হওয়ার সম্ভাবনায় সে এতটাই উত্তেজিত যে নিজের কল্পনাতেই তাকে নিয়ে একটি রোমান্টিক পারফরম্যান্সের ছবি এঁকে ফেলে। ফলে আগামী পর্বে একদিকে যেমন প্রেমের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে, তেমনই পল্লবী-আদিত্যর সম্পর্কও নতুন মোড়ের দিকে এগোতে চলেছে।
